সদরঘাটে শ্রমিকদের খাদ্যসামগ্রী দিল বিআইডব্লিউটিএ

সর্বাত্মক লকডাউনে বেকার হওয়া শ্রমিকদের খাদ্যসামগ্রী দিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। খাদ্যসামগ্রীর তালিকায় ছিল—চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, আলু ও সাবান। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা নদী বন্দরে (সদরঘাট) প্রায় ৫০০ শ্রমিককে এসব সামগ্রী দেওয়া হয়। বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেক শ্রমিকদের হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে শ্রমিকদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়। সদরঘাট ভবনের ভেতরে দুই ফুট দূরত্ব রেখে গোলচিহ্ন আঁকা হয়। প্রতিটি গোলাকার চিহ্নে এক জন করে শ্রমিক অবস্থান করেন। সেখানে শ্রমিকদের হাতে হাতে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়। খাদ্যসামগ্রী বিতরণ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেক বলেন, সর্বাত্মক লকডাউনে সব ধরনের যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে ঘাটে কাজ করা শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়েছেন। তাদের আয় বন্ধ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় তাদের সহযোগিতার অংশ হিসেবে খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএর ঢাকা নদীবন্দর কর্মকর্তা মো. গুলজার আলী বলেন, সদরঘাটের বেকার হওয়া শ্রমিক, নৌকার মাঝি ও আশপাশের ভবঘুরে মিলে ৫০০ ব্যক্তিকে খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়েছে।

খাদ্যসামগ্রী পাওয়া কয়েক জন শ্রমিক বলেন, লকডাউনে আমাদের আয় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। আশপাশের মার্কেট বন্ধ থাকায় কোথাও দিনমজুরের কাজও নেই। না খেয়ে থাকার উপক্রম হয়েছে। অনেকেই অভাবে বাড়ি চলে গেছে। আমাদের যে পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। তবুও খুব উপকার হয়েছে। খাদ্যসামগ্রী বিতরণের সময়ে বিআইডব্লিউটিএর সদস্য মো. নূরুল আলম, মো. দেলোয়ার হোসেন ও ড. এ কে এম মতিউর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী (ড্রেজিং) মো. আব্দুল মতিন, পরিচালক (বন্দর) কাজী ওয়াকিল নওয়াজ, প্রধান প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মো. আতাহার আলী সরদার ও অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ড্রেজিং) রকিবুল ইসলাম তালুকদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।