ইত্তেফাক রিপোর্ট
মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে শেয়ারবাজারে লেনদেনে সমস্যায় পড়ছেন বিনিয়োগকারী ও ব্রোকারেজ হাউজগুলো। গতকাল বুধবার কারিগরি জটিলতার কারণে বিনিয়োগকারীরা অ্যাপে শেয়ার কেনার অর্ডার দিতে পারেননি। অর্ডার দিলেও তা কার্যকর হচ্ছিল না। একই সঙ্গে শেয়ার কেনার জন্য যে ব্রোকার হাউজগুলোকে যে লিমিট দেওয়া হয়, সেটিও কাজ করছিল না বলে জানা গেছে। এসব কারণে গতকাল বুধবার পুঁজিবাজারের লেনদেনে শুরু থেকেই নেমে আসে ধীরগতি। অ্যাপ কাজ না করা এবং লিমিট না দিতে পারার বিষয়টি ডিএসইর ব্রোকার হাউজগুলো থেকেও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসিকে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিম জানান, এসংক্রান্ত কিছুটা জটিলতা হয়েছে। করোনার এই সময়ে যেহেতু ডিএসইর প্রি ওপেনিং সেশন নেই, তাই ব্রোকার হাউজগুলোকে আগের দিন লিমিট নেওয়া উচিত। লেনদেন শুরু হওয়ার পর লিমিট নিতে গেলে জটিলতা দেখা দিচ্ছে। তা কার্যকর হতে ২০ থেকে ২৫ মিনিট সময় লাগছে। তিনি জানান, মোবাইল অ্যাপ নিয়ে এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি লেনদেন হচ্ছে। ফলে লেনদেনের সংখ্যা বেড়ে গেছে। এটা নিয়ে কমিশন কাজ করছে, যাতে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা আরো বেশি অর্ডার দিতে পারেন।
গতকাল বুধবার লেনদেনের শুরুতে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২১ পয়েন্ট বাড়লেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমতে দেখা গেছে। অবশ্য ডিএসইর প্রধান এ সূচক ইতিবাচক পয়েন্ট নিয়েই লেনদেন শেষ হয়েছে। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১ দশমিক ৪৩ পয়েন্ট বেড়ে দঁঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪২৩ দশমিক ২২ পয়েন্টে। ডিএসইর অপর সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসই-৩০ সূচক শূন্য দশমিক ৮৬ পয়েন্ট বাড়লেও শরিয়াহ সূচক শূন্য দশমিক শূন্য ৪ পয়েন্ট কমেছে। গতকাল ডিএসইতে ৭৭৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিন থেকে ৫২৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা কম। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ২৯৯ কোটি ৮৪ লাখ টাকার। ডিএসইতে গতকাল ৩৫৪টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে ১৩০টির বা ৩৬ দশমিক ৭২ শতাংশের শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে। শেয়ার দর কমেছে ১৫৭টির বা ৪৪ দশমিক ৩৫ শতাংশের এবং বাকি ৬৭টির বা ১৮ দশমিক ৯৩ শতাংশের দর অপরিবর্তিত রয়েছে। অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২৫ দশমিক ৭৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৭১১ দশমিক ২৫ পয়েন্টে।