এক রাতেই সুপার লিগের ‘অপমৃত্যু’

স্পোর্টস ডেস্ক

ফুটবল দুনিয়া তোলপাড় করা এক সিদ্ধান্ত দুই দিনের মধ্যে  উলটে গেল। শেষ পর্যন্ত হচ্ছে না ইউরোপিয়ান ফুটবল সুপার লিগ। ১২টি খেলবে, একটি ক্লাব ৩৫ হাজার কোটি টাকা করে পাবে। সব পরিকল্পনা জলে ডুবেছে।

নতুন টুর্নামেন্ট নিয়ে ইউরোপের ফুটবলে বহু নাটকীয়তা শেষে গতকাল বুধবার সুপার লিগের সহ-সভাপতি ও টুর্নামেন্টের  অন্যতম প্রধান কারগির আন্দ্রেয়া আনেয়েল্লি তাদের মোহাবিষ্টের কথা স্বীকার করে নেন। জানিয়ে দেন, আপাতত আর সুপার লিগের আয়োজন সম্ভব নয়। মঙ্গলবার রাতে প্রথম দফায় প্রিমিয়ার লিগের ৬ ক্লাব একসঙ্গে টুর্নামেন্ট থেকে সরে যায়। এরপরই শুরু হয় অন্যান্য ক্লাবগুলোর বেরিয়ে যাওয়ার মিছিল।

ফিফার সভাপতি ইনফান্তিনিও যেভাবে হুংকার দিয়েছিলেন বিদ্রোহী দলগুলোকে। হয় থাকবে না হয়ে চলে যাবে। সুপার লিগের অনুমোদন দেবে না ফিফা। এমন কথাতেই সব পালটে গেল না কি না সেটা পরে জানা যাবে। তবে ইউরোপের ফুটবল দর্শকরা ইউরোপের ফুটবল আঙিনায় যে আন্দোলনটা করেছেন সেটা উয়েফা এবং ফিফার পক্ষেই কাজেও লেগেছে তা বলা যায়। ক্লাবগুলো নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছে তাদের সমর্থকদের কাছে।

মঙ্গলবার রাত থেকেই ফাটল দেখা দেয় প্রতিষ্ঠাতা ১২ ক্লাবের মধ্যে। সুপার লিগ কর্তৃপক্ষ তাদের বিবৃতিতে জানায়, উয়েফা ইংলিশ লিগের ৬ ক্লাবকে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপহার দেওয়ার প্রলোভন দিয়ে সরিয়ে এনেছে। শুরুটা করে ম্যানচেস্টার সিটি এবং চেলসি এরপর লিভারপুল, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, আর্সেনাল, টটেনহ্যাম যোগ দিলে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ ইন্টারমিলানও বেরিয়ে যাওয়ার পথ অনুসরণ করে। সুপার লিগের বিপক্ষে চলে গেছে এসি মিলানও।

সমর্থকদের নিরন্তর সমালোচনা ও বিক্ষোভের মুখেই যে লিভারপুল-ইউনাইটেডের মতো ক্লাবগুলো নতি স্বীকার করেছে তা বলাই বাহুল্য।

রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে সুপার লিগের ‘অপমৃত্যুর’ কথা ঘোষণা করে দেন আনেয়েল্লি। ইপিএলের ছয় ক্লাবের পিছু হটার কথা তুলে ধরে আর এ লিগ আয়োজন সম্ভব কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে আনেয়েল্লি জানিয়েছেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে এভাবে আয়োজন করা সম্ভব নয়।’

সুপার লিগে টিকে আছে কেবল রিয়াল মাদ্রিদ এবং বার্সেলোনা। রিয়াল সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ সুপার লিগেরই সভাপতি।