আগামী বাজেট দেশের দরিদ্র মানুষের জন্য নিবেদিত থাকবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, ‘বাজেট হবে দরিদ্রবান্ধব। গরিব মানুষের জন্য আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে তাদের গরিব থেকে বের করে নিয়ে আসা। যারা অতিরিক্ত গরিব আছে, তারা গরিব হবে এবং যারা গরিব আছে তাদের আমরা মূল স্রোতধারায় নিয়ে আসব।’ গতকাল বুধবার অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ও সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার দুটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জরিপে উঠে আসে যে করোনার প্রভাবে দেশে নতুন করে ২ কোটি ৪৫ লাখ মানুষ দরিদ্র হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে মতামত জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ মন্তব্য করেন। তিনি আরো বলেন, ‘গবেষণা করে যদি তারা কোনো তথ্য দিয়ে থাকে, সেটা পরিসংখ্যান ব্যুরো দেখবে। সরকারি হিসাব এখনো তৈরি হয়নি, হলে আমরা অবশ্যই জানাব।’
দরিদ্রদের মূল স্রোতে আনতে বাজেটে বড় একটি বরাদ্দ দরকার, সেক্ষেত্রে নতুন করে সামাজিক সুরক্ষা খাতে বাড়তি কোনো বরাদ্দ রাখবেন কি না, জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের আগামী বাজেট নিবেদিত থাকবে এ দেশের দরিদ্র মানুষের জন্য। এরাই অগ্রাধিকার পাবে। সুতরাং আমরা মানুষের জীবন-জীবিকার জন্য বাজেটে জায়গা করে দেব।’
গত বছর দরিদ্রদের অর্থ বিতরণে অনিয়ম হয়েছে, এ বছর এই কার্যক্রম হাতে নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মিসম্যাচটা হওয়ার কারণ হলো, আমাদের যেসব প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বা পিছিয়ে পড়া জনগণের কথা বলছেন, তাদের যে আইডি কার্ড বা মাধ্যম রয়েছে সেখানে সরাসরি ট্রান্সফার করে দিই। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে সেটি ট্রান্সফারের উপযুক্ত থাকে না। সেজন্য একটু বিলম্ব হয়। কিন্তু আমরা কাজগুলো করছি। যাদের আমরা আড়াই হাজার টাকা করে দেব, সরকারের সিদ্ধান্ত হচ্ছে এই টাকা সরাসরি ট্রান্সফার করা হবে। সরাসরি ট্রান্সফার করতে গেলে সিস্টেম উন্নত করতে হবে। আর একবার যদি সিস্টেমে চলে আসে, তাহলে ভবিষ্যতে এর চেয়ে সহজ কাজ আর হবে না। তখন আমরা কম সময়ে অনেক বেশি কাজ করতে পারব।’ অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন, সুতরাং এই আড়াই হাজার টাকা বিতরণের কাজ শিগিগর শুরু হবে।’
ক্রয় কমিটির বৈঠকে আট প্রস্তাব অনুমোদ
সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় মোট আটটি প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অধীন কমিউনিটি বেইজড হেলথ কেয়ার কর্তৃপক্ষ (সিবিএইচসি) কর্তৃক ২৭ প্রকার ওষুধ সংবলিত ৮০ হাজার ৭৩৪ কার্টন ওষুধ মোট ১৩৯ কোটি ৯৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকায় সরকারি প্রতিষ্ঠান অ্যাসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের কাছ থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সভায় খুলনা পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১২৪ কিলোমিটার স্যুয়ার পাইপ লাইন, তিনটি স্যুয়ারেজ পাম্পিং স্টেশন ও ১৩ হাজার ৮০০ সার্ভিস কানেকশন নির্মাণের কাজ চায়না জিইও ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের কাছ থেকে ৬৯৬ কোটি ৭৬ লাখ টাকায় ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
পেট্রোবাংলা কর্তৃক সিঙ্গাপুরের ভিটোল এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ এলএনজি সর্বমোট ২৬৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকায় আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে পণ্য পরিবহনের উত্সমুখে এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পের একটি প্যাকেজের পূর্ত কাজ ১৮৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকায় ক্রয়ের প্রস্তাব, কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক (এন-১) উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কক্সবাজার থেকে উখিয়া ২৫ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন কাজের ভেরিয়েশন বাবদ অতিরিক্ত ১৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকার প্রস্তাব, উখিয়া থেকে উনচিপ্রাং ২৫ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন কাজের ভেরিয়েশন বাবদ অতিরিক্ত ১৬ কোটি ৩১ লাখ টাকার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সভায় রেলওয়ে কর্তৃক মধুখালী থেকে কামারখালী হয়ে মাগুরা শহর পর্যন্ত ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের প্যাকেজ নম্বর ডব্লিউডি-১-এর নির্মাণকাজ ৪৩৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকায় ক্রয়ের প্রস্তাব, একই প্রকল্পের ডব্লিউডি-২-এর নির্মাণকাজ ৪৪৮ কোটি ৯৪ লাখ টাকায় ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন ২০২০-২১ অর্থবছরে সিটি করপোরেশনসমূহের জন্য উইড হারভেস্টার জার্মানি থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ক্রয়ের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।