চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বিদ্যুেকন্দ্রে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় চিকিত্সাধীন অবস্থায় গত সোমবার রাতে মারা গেছেন দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার বেতদীঘি ইউনিয়নের নথন জামদানি গ্রামের গুলিবিদ্ধ শ্রমিক রাজেউল ইসলাম (২৫)। নিহত রাজেউল ঐ গ্রামের দিনমজুর আব্দুল মান্নান মন্ডলের ছেলে এবং বাঁশখালীর এস আলম গ্রুপের পাওয়ার প্লান্টের বয়লারের ফিল্টারম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
গত ১৭ এপ্রিল শনিবার সকালে শ্রমিকরা তাদের দাবিদাওয়া নিয়ে আন্দোলন শুরু করলে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এ সময় পাঁচ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুলিবিদ্ধসহ বিভিন্নভাবে আহত হন শতাধিক শ্রমিক।
নিহত রাজেউল ইসলামের মামা রেজাউল ইসলাম বলেন, তার লাশ গত মঙ্গলবার রাতে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে এসে দাফন করা হয়েছে। চাচাতো ভাই মোবারক হোসেন বলেন, তিন ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট ছিল রাজেউল। তার বড় ভাই সৌদি প্রবাসী ও বড় বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। পরিবারের অভাব ঘুচাতে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া শেষ করেই রাজেউল বিভিন্ন কাজের পর ছয় মাস আগে বাঁশখালী দুবাসী পাওয়ার প্লান্টের বয়লারের ফিল্টারম্যান হিসেবে কাজে যোগ দিয়েছিলেন। প্রতি মাসে তার পাঠানো টাকায় পরিবারের অনেকটাই দুঃখ ঘুচতে শুরু করেছিল। কিন্তু তার মৃত্যুতে নিভে গেল একটি পরিবারের স্বপ্নের প্রদীপ। নিহত রাজেউলের মা ওয়াজেবুন হানার বিলাপ করে বলেন, আমি আর টাকা-পয়সা চাই না, না খেয়েই থাকব কিন্তু আমার ছেলেকে ফিরিয়ে দিন। কি অপরাধ ছিল তার?
ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে জানতে পারি রাজেউলের মৃত্যু হয়েছে।
নিহতদের ৭৫ লাখ টাকা দেওয়ার দাবি
চট্টগ্রাম অফিস জানায়, বাঁশখালীতে এস আলম গ্রুপের নির্মাণাধীন বিদুেকন্দ্রে পুলিশের গুলিতে নিহত পাঁচ শ্রমিকের প্রত্যেকের পরিবারকে ১৫ লাখ করে সর্বমোট ৭৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) নেতৃবৃন্দ। গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে স্কপ নেতারা এ দাবি তুলে ধরেন।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি ও স্কপের জেলা সমন্বয়ক তপন দত্ত। বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় শ্রমিক লীগের সহসভাপতি মুহাম্মদ শফর আলী, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এ এম নাজিম উদ্দিন প্রমুখ।