ভারতের মহারাষ্ট্রের নাসিক শহরের একটি সরকারি কোভিড হাসপাতালে অক্সিজেন সরবরাহ বিঘ্নিত হয়ে একসঙ্গে অন্তত ২২ জন রোগী মারা গেছেন। গতকাল বুধবার ঐ হাসপাতালের সামনে একটি ট্যাঙ্কার থেকে অক্সিজেন লিক হওয়ার জেরেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় প্রশাসন এ ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, মহারাষ্ট্রে এই ঘটনা এমন এক দিনে ঘটেছে, যেদিন ভারতে দৈনিক শনাক্ত নতুন রোগীর সংখ্যা রেকর্ড ৩ লাখের কাছাকাছি পৌঁছেছে এবং কোভিড রোগীদের জন্য অক্সিজেনের সংকটও চরম আকার ধারণ করেছে। মহারাষ্ট্রে করোনা পরিস্থিতি সবচেয়ে শোচনীয়। মহারাষ্ট্রের নাসিকে জাকির হুসেইন মিউনিসিপ্যাল হাসপাতাল এই মুহূর্তে শুধু কোভিডের জন্য নির্দিষ্ট হাসপাতাল হিসেবে কাজ করছে। বুধবার সকালেও সেখানে অন্তত দেড়শ রোগী ভর্তি ছিলেন, যাদের হয় ভেন্টিলিটরে রেখে বা ২৪ ঘণ্টা অক্সিজেন সরবরাহ করে চিকিত্সা চলছিল। কিন্তু দুপুরের দিকে হাসপাতালের ঠিক বাইরে যখন একটি অক্সিজেন ট্যাঙ্কার থেকে তাদের স্টোরেজে জীবনদায়ী এই গ্যাসটি ভরা হচ্ছিল, তখনই মারাত্মক লিকেজের ঘটনা ঘটে। সঙ্গে সঙ্গে ঘন সাদা ধোঁয়ায় চারপাশ ছেয়ে যায়, আর হাসপাতালে যে রোগীদের অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছিল তাদের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
অক্সিজেনের জোগান বন্ধ ছিল আধা ঘণ্টার কিছু বেশি সময়, কিন্তু এর মধ্যেই হাসপাতালের অন্তত ২২ জন রোগী প্রাণ হারান। মহারাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজেশ টোপে সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা স্থানীয় কর্মকর্তাদের কাছে বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর করছি। নিহতদের মধ্যে ১১ জন পুরুষ ও ১১ জন নারী ছিলেন। এখানে স্বাস্থ্যকর্মীদের গাফিলতি ছিল কি না এখনই বলা যাবে না, তবে প্রাথমিকভাবে বিষয়টি যান্ত্রিক ত্রুটি বলেই মনে হচ্ছে। তবে সরকার বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।
এদিকে গতকাল বুধবার ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, আগের ২৪ ঘণ্টায় ভারতে রেকর্ড ২ লাখ ৯৫ হাজারেরও বেশি নতুন কোভিড রোগী শনাক্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন ২ হাজার ২৩ জন। অক্সিজেনের তীব্র সংকট এই ভয়াবহ পরিস্থিতিকে আরো হূদয়বিদারক করে তুলেছে। দেশের বহু হাসপাতালই অক্সিজেনের অভাবে ধুঁকছে। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল মঙ্গলবার রাতেই কেন্দ্রীয় সরকারকে জরুরি এসওএস পাঠিয়ে বলেন, শহরের প্রধান হাসপাতালগুলোতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার মতো অক্সিজেন অবশিষ্ট আছে। এদিকে এই সংকটের জন্য কেন্দ্রকে দায়ী করেছেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও।