হেফাজতের নেতা খুরশিদ ও আতাউল্লাহ গ্রেফতার

হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর শাখার সহসভাপতি এবং বাংলাদেশ  খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির খুরশিদ আলম কাসেমীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এছাড়া হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক, ঢাকা মহানগরীর সহসাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমীনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। অন্যদিকে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব মুফতি শাখাওয়াত হোসাইন রাজী ও মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলামকে পৃথক তিন মামলায় সাত দিন করে ২১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

গতকাল বুধবার বিকেল ৫টার দিকে মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে সাদা পোশাকের কিছু ব্যক্তি তাকে আটক করেন। পরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার (ডিবি) মাহবুব আলম জানান, তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, সাম্প্রতিক নাশকতা এবং ২০১৩ সালের নাশকতার মামলায় খুরশিদ আলম কাসেমীর সম্পৃক্ততা রয়েছে। এ কারণে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে হাজির করা হবে।

এদিকে গত মঙ্গলবার বিকেলে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক, ঢাকা মহানগরী শাখার সহসাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম-মহাসচিব আতাউল্লাহ আমীনকে  মোহাম্মদপুর থেকে সাদা পোশাকের একটি দল আটক করে নিয়ে যায়। মঙ্গলবার ডিবি বা অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কেউ তাকে গ্রেফতারের কথা স্বীকার করেনি। পরে বুধবার র্যাব জানিয়েছে, তারা আতাউল্লাহকে আটক করেছে।

র্যাব সদর দপ্তর থেকে গতকাল দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় বলা হয়েছে, পল্টন থানার একটি মামলার আসামি আতাউল্লাহকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার তাকে পল্টন থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। খেলাফত মজলিসের সাধারণ সম্পাদক মুফতি সারাফত হোসেনকেও বিকেল ৫টার দিকে মিরপুর থেকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। মুফতি সারাফত হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতা মামুনুল হকের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ।

এদিকে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব মুফতি শাখাওয়াত হোসাইন রাজী ও মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলামকে পৃথক তিন মামলায় সাত দিন করে ২১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশীদ রিমান্ডের আদেশ দেন।

২০১৩ সালে রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতের তাণ্ডবের ঘটনায় পল্টন থানার একটি মামলায় গত ১৫ এপ্রিল এ দুই আসামির পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। ঐ রিমান্ড শেষে বুধবার আসামিদের আদালতে হাজির করে কারাগারে রাখার আবেদন করা হয়। একই দিনে মতিঝিল থানার দুই মামলা এবং পল্টন থানার একটি মামলায় আসামিদের ১০ দিন করে ৩০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে ডিবি পুলিশ। আসামিদের পক্ষে সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবাহ রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তিন মামলায় সাত দিন করে প্রত্যেকের ২১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে গত ১৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় লালবাগ থেকে ডিবির একটি টিম এই দুজনকে গ্রেফতার করে।