আজ প্রাণঘাতী মহামারি করোনা ভাইরাসের মধ্য দিয়েও ১৪৪২ হিজরির নবম রমজানুল মোবারক অতিবাহিত হচ্ছে। রমজান হলো পবিত্র মাস। আর রমজান শরিফের রোজার প্রশিক্ষণ কাজে লাগিয়ে পথ চলা শুরু হয় আগামী এগারো মাসের আত্মিক ও দৈহিক সততা এবং ইনছাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণের জন্য। মানুষ মানুষের জন্য, মানবতার সেই জয়যাত্রা এভাবেই শুরু হয়। পবিত্র রমজান মাস আসার আগে থেকেই মানবতা, উদারতা ও দানশীলতার শিক্ষা এমনকি ব্যবসা-বাণিজ্যে সততার মূর্ত প্রতীক হওয়াও ইবাদত বলে গণ্য হবে। রসুল পাক (স.) এরশাদ করেন, আত-তাজিরুছ ছাদিক, অর্থাত্ সত্ বাবসায়ীগণ শুহাদা, ছিদ্দিকিন ও ছালেহিনদের সঙ্গে হাশরের ময়দানে অবস্থান করবে। আল্লাহর ঘোষণা, উহিল্লাল্লাহু বাইয়া ওয়া হার্রামার রিবা। অর্থাত্, আল্লাহপাক ব্যবসা-বাণিজ্যকে হালাল করেছেন এবং সুদ প্রথাকে হারাম করেছেন। কিন্তু রমজান মাস আসার আগেই কিছু কিছু অসাধুপায়ী বাবসায়ী চাল, ডাল, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন খাবার চড়া দামে বিক্রি করতে থাকেন, যা সমাজের মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত আয়ের রোজাদারগণকে কিনতে খুব হিমশিম খেতে হয়।
রমজান আসার আগেই বাজারগুলোতে সব জিনিসের দাম বেড়ে যায়। মহান আল্লাহর গজব করোনা ভাইরাসের দিকে তাকিয়ে এবং মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত আয়ের রোজাদারের ক্রয়ক্ষমতার সীমারেখার মাঝে রেখেই ব্যবসায়ীদের সাধারণ ক্রেতাদের প্রতি আন্তরিক হওয়াটাই হলো মাহে রমজানের পবিত্রতা রক্ষা এবং অধিকসংখ্যক ছওয়াবের কাজ। বিগত ১১ মাস ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করেছেন, কিন্তু করোনা ভাইরাসকালীন পবিত্র রমজান মাসের কারণে না হয় মুনাফা একটু কমই করলেন। কিন্তু এর উওম জাঝা মহান আল্লাহর কাছ থেকে পাবেন। অতএব, রমজান মাসের কারণে সব দ্রব্যের দাম করোনাকালীন সাধারণ রোজাদারদের ক্রয়ক্ষমতার ভেতরে আনতে পারলে বাবসায়ীগণ মানবতা ও উদারতার সওয়াবে অংশীদার হবেন, ইনশাআল্লাহ। এছাড়া শুধু রমজান কেন, কখনোই খাদ্যে ভেজাল দেওয়া যাবে না। কেননা, সহিহ বুখারি শরিফের বর্ণনায় পাওয়া যায়, রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি ধোঁকা দেয় ও প্রতারণা করে, সে আমার দলভুক্ত নয়।’ মহান আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে সত্যবাদীদের নামের তালিকায় রাখার তাওফিক দান করুন। আমিন।
লেখক :অতিথি অনুবাদক, মক্কা আল মুকাররামাহ ও সাবেক খতিব, জাতীয় সংসদ জামে মসজিদ, ঢাকা