সিরাজগঞ্জে আহত ১০
ইত্তেফাক ডেস্ক
বিভিন্ন স্থানে কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এদিকে সিরাজগঞ্জে গাছ উপড়ে পড়ে ১০ জন আহত হয়েছেন। ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর।
সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জে বুধবার রাত ৯টা থেকে ঘণ্টাব্যাপী ঝড়ে সিরাজগঞ্জে বড় বড় গাছ উপড়ে বাড়িঘরের ওপরে পড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে বিদ্যুত্ বিছিন্ন হয়ে গেছে। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বৃহস্পতিবার বিকালে কোনো কোনো এলাকায় বিদ্যুত্ সংযোগ চালু হয়নি। প্রচণ্ড ঝড়ে ধান, তিল, পাট ও সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার চররায়পুর রেলি ব্রাদার্সে ব্রিটিশ আমলের শতবর্ষী একটি বটগাছ উপড়ে পড়ে অন্তত ১০টি বাড়িঘরের ক্ষতি হয়। এতে নারীসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। আহত নুরুল ইসলাম জানান, রাতে যখন সবাই ঘরে ছিলাম তখন ঝড়ে হঠাত্ করে বটগাছটি ঘরের ওপরে পড়ে। এতে তিনিসহ ১০ জন আহত হন। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রস্তম আলী জানান, ঝড়-বৃষ্টিতে জেলা সদরে ২৫০ হেক্টর জমির বোরো ধান, ১৯ হেক্টর সবজি, পাঁচ হেক্টর ভুট্টা ও দুই হেক্টর জমির পাট হেলে পড়েছে।
তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়): তেঁতুলিয়ায় হঠাত্ শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ের তাণ্ডবে বাড়িঘর ভেঙে তছনছ হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার ভজনপুর এলাকায় ঝড়ো বাতাসের সঙ্গে শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় গিতালগছ, ডিমাগজ, প্রধানগজ, বৈরাগীগজ, শান্তিনগর, কির্তনপাড়া, কুড়ানুগজসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে গাছপালা উপড়ে পড়ে। শিলাবৃষ্টির কারণে টিনের চালাগুলো ফুটো হয়ে যাওয়ার ফলে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেকের ঘর ভেঙে পড়েছে। বেশ কয়েকজন আহত হয়ে স্থানীয় ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এদিকে ব্যাপক শিলাবৃষ্টিতে বোরো ধানের শিষ ছিন্ন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। উপজেলার ডিমাগজ গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন ও কৃষক রেজাউল ইসলাম জানান, আমার বোরো আবাদ নষ্ট হয়ে গেছে ও টিনের চালাঘর ভেঙে গেছে। করোনাকালীন হঠাত্ ঝড়ের ধাক্কায় খুব চিন্তিত হয়ে পড়েছি। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অন্তত ১ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে। এদিকে ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী মাহমুদুর রহমান ডাবলু এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহাগ চন্দ্র সাহা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোহাগ চন্দ্র সাহা বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি। স্থানীয় চেয়ারম্যানকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন থেকে সহযোগিতা দেওয়া হবে।
পত্নীতলা (নওগাঁ): পত্নীতলায় বুধবার রাতের ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির কারণে অনেক স্থানে আধাপাকা ধান মাটিতে নুইয়ে পড়ায় ফসল ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন কৃষক। উপজেলার ফহিমপুর গ্রামের কৃষক অনিল কুমার জানান, তিনি চলতি বছরে পাঁচ বিঘা জমিতে বোরো ধান লাগিয়েছেন। ধানের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। তবে বুধবার রাতের ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিতে অনেক স্থানে আধাপাকা ধান নুইয়ে পড়েছে বলেও তিনি জানান।