ওদের রেকর্ড জুটি

স্পোর্টস রিপোর্টার

স্ট্রাইকে থাকা মুমিনুল হক বল লিভ করছেন, ডিফেন্স করছেন। তা দেখে নন স্ট্রাইকে থাকা নাজমুল হোসেন শান্ত হাঁক তুলছেন, ভাই ভালো হচ্ছে এভাবেই খেলেন।

পাল্লেকেলের সবুজ জমিনে বাংলাদেশের এ দুই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের যুগলবন্দি দেখেছে ক্রিকেট বিশ্ব। তাদের জুটির রসায়নটা শান্তর কথাতেই স্পষ্ট। পরস্পরকে সমর্থন করে গেছেন ইনিংস জুড়ে। বাঁ হাতের খেল দেখিয়েছেন ২২ গজে। রেকর্ড গড়া জুটির মালিক এখন শান্ত-মুমিনুল। গতকাল লাঞ্চের পর তাদের জুটি ভেঙেছে ২৪২ রানে। যা তৃতীয় উইকেটে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ রানের জুটি।

এ তালিকার পরের দুটি সেরা জুটিতেও জড়িয়ে আছেন মুমিনুল। ২০১৮ সালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে মুশফিকের সঙ্গে ২৩৬ রানের জুটি গড়েছিলেন তিনি। তৃতীয় স্থানে ২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তামিম-মুমিনুলের গড়া ১৫৭ রানের জুটি।

অল্পের জন্য আরেকটি রেকর্ড নিজেদের করে নিতে পারেননি শান্ত-মুমিনুল। ক্যান্ডিতে তাদের জুটি খেলেছে ৫১৪ বল। মাত্র চার বল বেশি খেলে শীর্ষে রয়ে গেছেন মোহাম্মদ আশরাফুল-মুশফিকুর রহিম। ২০১৩ সালে গল টেস্টে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৫১৮ বল খেলেছিলেন তারা। বলের হিসেবে এটিই বাংলাদেশের পক্ষে সেরা জুটি। এ তালিকার তৃতীয় স্থানে আছে ২০০৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে জাভেদ ওমর বেলিম ও নাফিস ইকবালের খেলা ৪৯৮ বল।

ম্যাচের প্রথম দিনে লাঞ্চের পর তামিম আউট হলে উইকেটে আসেন মুমিনুল। ১৫০ রানের জুটি গড়ে দিন শেষে অবিচ্ছিন্ন ছিলেন তারা। শান্ত ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি করেছিলেন। গতকাল দ্বিতীয় দিনের শুরুতে রয়েসয়ে ব্যাটিং করেছেন, জমাট রক্ষণে উইকেট আগলে দুই জন। লঙ্কানদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংকে সমীহ করেছেন। নতুন বল নিয়ে, স্পিনার-পেসারদের পালাক্রমে ব্যবহার করেও জুটি ভাঙতে সমর্থ হয়নি শ্রীলঙ্কা।

গতকাল লাঞ্চের আগেই দেশের বাইরে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মুমিনুল। যা তার ১১তম সেঞ্চুরি। শান্তও ১৫০ রানের মাইলফলক পার হন। লাঞ্চের পর সপ্তম ওভারে কট অ্যান্ড বোল্ড হন শান্ত। লাহিরু কুমারাকে ক্যাচ দেওয়ার আগে ৩৭৮ বলে ১৬৩ রানের (১৭ চার, ১ ছয়) ইনিংস খেলেন। ভেঙে যায় তাদের রেকর্ড জুটি।

প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির ইনিংসে সঙ্গী ও অগ্রজ মুমিনুলকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল শান্তর সামনে। ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের খেলা সবচেয়ে বড় ইনিংসটা মুমিনুলের। ২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১৮১ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। সেই রেকর্ড থেকে ১৮ রান দূরে থামেন শান্ত।    

তৃতীয় উইকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ জুটি

ব্যাটসম্যান                  রান              প্রতিপক্ষ           সাল

শান্ত-মুমিনুল                ২৪২            শ্রীলঙ্কা             ২০২১

মুমিনুল-মুশফিক           ২৩৬            শ্রীলঙ্কা             ২০১৮

তামিম-মুমিনুল             ১৫৭            নিউজিল্যান্ড       ২০১৩

বলের হিসেবে বাংলাদেশের বড় জুটি

বল            ব্যাটসম্যান                             প্রতিপক্ষ       সাল

৫১৮       আশরাফুল-মুশফিক                   শ্রীলঙ্কা        ২০১৩

৫১৪       শান্ত-মুমিনুল                            শ্রীলঙ্কা        ২০২১

৪৯৮       জাভেদ ওমর-নাফিস ইকবাল       জিম্বাবুয়ে     ২০০৫

স্কোর কার্ড (দ্বিতীয় দিন শেষে)

টস: বাংলাদেশ

(আগের দিন ৩০২/২, ৯০ ওভার, শান্ত ১২৬*, মুমিনুল ৬৪*)

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস                          রান      বল      চার    ছয়

নাজমুল হোসেন শান্ত ক অ্যান্ড ব কুমারা      ১৬৩    ৩৭৮    ১৭    ১

মুমিনুল হক ক থিরিমান্নে ব ধনঞ্জয়া            ১২৭    ৩০৪    ১১     ০

মুশফিকুর রহিম অপরাজিত                      ৪৩      ১০৭    ৪      ০

লিটন দাস অপরাজিত                            ২৫      ৩৯      ২       ১      

অতিরিক্ত (বা ৫, লেবা ৬, নো বো ৫, ও ১০) ২৬

মোট (১৫৫ ওভার, ৪ উইকেট)                 ৪৭৪

উইকেট পতন: ১/৮ (সাইফ), ২/১৫২ (তামিম), ৩/৩৯৪ (শান্ত), ৪/৪২৪ (মুমিনুল)।

শ্রীলংকা বোলিং :

সুরাঙ্গা লাকমল : ৩১-১২-৭৪-০, বিশ্ব ফার্নান্দো : ২৮-৮-৭৫-২, লাহিরু কুমারা : ২৮-৪-৮৮-১, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস : ৭-১-১৪-০, ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা : ২৭-১-১১২-১, হাসারাঙ্গা ডি সিলভা : ৩৩-২-৯৪-০, দিমুথ করুনারত্নে : ১-০-৬-০।