মুমিনুল হক ১২৭ রান বল ৩০৪ চার ১১
জান-ই-আলম
শ্রীলঙ্কায় ভালো সুযোগ, একটা সেঞ্চুরি করে আইসেন।
-ইনশাআল্লাহ, আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।
কলম্বোগামী বিমানে চড়ার আগের দিন এ প্রতিবেদকের সঙ্গে একান্ত আলাপে এমন করেই আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হক।
গতকাল ক্যান্ডিতে ক্যারিয়ারের ১১তম সেঞ্চুরি করেছেন মুমিনুল। যার মাধ্যমে একটা অপবাদও ঘুচালেন তিনি। কারণ দেশের বাইরে এটিই তার প্রথম সেঞ্চুরি। আগের ১০ সেঞ্চুরিই দেশের মাটিতে। গত কিছুদিন তো ‘ঘরের বাঘ’ বলে সমালোচনার তীরেও বিদ্ধ হয়েছেন। সেদিক থেকে এ সেঞ্চুরিটা বড় স্বস্তির অনুসঙ্গ মুমিনুলের জন্য। পাশাপাশি সমালোচকদের মুখ বন্ধ করার উপলক্ষ্যও বটে।
যদিও এ বাঁহাতি ব্যাটসম্যান এমনভাবে চিন্তা করছেন না। দেশের বাইরে প্রথম সেঞ্চুরিতে ‘ভারমুক্তির, স্বস্তির’ আনন্দ খুঁজছেন না মুমিনুল। দিন শেষে ব্যাটিংয়ে তৃপ্তও নন দেশের পক্ষে সর্বাধিক টেস্ট সেঞ্চুরির মালিক। কারণ তিনি মনে করেন, একটা ডাবল সেঞ্চুরি ফেলে এসেছেন পাল্লেকেলের সবুজ জমিনে!
গতকাল চা বিরতির আগে ধনাঞ্জয়ার বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে আউট হয়েছেন মুমিনুল। ১২৭ রানের ইনিংস খেলে সন্তুষ্ট নন তিনি। এ ইনিংসেই ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বেশি বল খেলেছেন তিনি। ৩০৪ বল খেলে মেরেছেন ১১টি চার।
বিদেশের মাটিতে বহুল কাঙ্ক্ষিত সেঞ্চুরি পেলেন ক্যারিয়ারের ৪৩তম ম্যাচে। কিছুটা নিজেকে প্রমাণের আনন্দে ভাসতেই পারেন মুমিনুল। কিন্তু গতকাল সন্ধ্যায় কলম্বো থেকে টেস্ট অধিনায়ক জানালেন, ‘এখানে স্বস্তির কিছু নাই। দ্বিতীয়টা (সেঞ্চুরি) কখন করতে পারব সেটাই চ্যালেঞ্জ।’
ডাবল সেঞ্চুরির আশা নিয়েই ছুঁটছিলেন মুমিনুল। ২৯ বছর বয়সি এ ব্যাটসম্যান বলেছেন, ‘আমি তো ২০০ চাইছিলাম।’ সেটি পূরণ করতে না পারায় মনের ভেতর আক্ষেপ রয়ে গেছে। ব্যক্তিগত অর্জন, মাইলফলক ভুলে এখন ম্যাচ জেতার দিকেই নজর বাংলাদেশের অধিনায়ক।
সর্বশেষ চার টেস্টে তিন সেঞ্চুরি করেছেন মুমিনুল। দুর্দান্ত ফর্মে থাকলেও এ বাঁহাতির রান ক্ষুধায় ভাটা পড়ছে না। ব্যাটসম্যান হিসেবে এমন অতৃপ্তিই ক্রমাগত অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে তাকে। ক্রিকেটপ্রেমীরাও নিশ্চয়ই চাইবেন, মুমিনুলের রান ক্ষুধা আরো তীব্র থেকে তীব্রতর হোক আগামীতে। আখেরে তাতে যে বাংলাদেশই লাভবান হবে।