খুমেকে করোনা রোগীর চিকিত্সায় বাড়ছে আইসিইউ বেডের সংখ্যা

সাধারণ শয্যাতেও থাকছে অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা

এনামুল হক, খুলনা অফিস

খুলনায় করোনা রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় করোনা স্পেশাল হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) শয্যা সংখ্যা বাড়ানোসহ সকল সাধারণ শয্যায় অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে আশা করছেন কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে স্থাপিত করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালের আটটি আইসিইউতে এখন রোগী আছে। এছাড়া হাসপাতালের ১০০ সাধারণ শয্যায় রোগীর সংখ্যা থাকছে প্রতিদিন গড়ে ৮০ থেকে ৮৫ জন। বাকি শয্যা (বেড) পূরণ হয়ে গেলে পরবর্তী রোগী ভর্তি নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিত্সকরা। এ পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় কোনো ইউনিট তৈরি না হলেও আইসিইউর সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সূত্র জানায়, করোনার শুরুতে গত বছর খুলনা ডায়াবেটিক হাসপাতালে ১০০ শয্যার করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল চালু করা হলেও ডিসেম্বরে তা ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে খুমেক হাসপাতাল অভ্যন্তরে আইসিইউ ভবনের নিচতলা ও দোতলা মিলিয়ে চলছে ১০০ শয্যার করোনা হাসপাতালের কার্যক্রম। ৩৬টি শয্যায় সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন রয়েছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম।

সূত্রমতে, করোনা ওয়ার্ডে দুর্ভোগ কমাতে ইউনিসেফের সহায়তায় নতুন করে আরো ১০টি আইসিইউ শয্যা প্রস্তুত হচ্ছে। একই সঙ্গে সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইনের সংখ্যা বাড়িয়ে ৩৬টি থেকে শতভাগ হচ্ছে। তবে দ্বিতীয় কোনো ইউনিট এই মুহূর্তে করতে পারছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

খুমেক হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ও করোনা ইউনিটের মুখপাত্র ডা. সুহাস রঞ্জন হালদার বলেন, করোনা ইউনিটের শয্যা সংখ্যা বাড়াতে গেলে শুধু শয্যা অথবা অক্সিজেন সরবরাহ করলেই হয় না। এর সঙ্গে আরো অনেক কিছু জড়িত আছে। ভেন্টিলেটর চালাতে গেলে এর সঙ্গে বিদ্যুত্ সংযোগ, মনিটর, সাকার মেশিন, শয্যা, সাইড ট্রলি, এসি ইত্যাদিসহ অন্তত সাত/আট প্রকারের সরঞ্জামের প্রয়োজন হয়।

খুমেক হাসপাতালের করোনা প্রতিরোধ ও চিকিত্সাবিষয়ক কমিটির সমন্বয়কারী এবং খুমেকের উপাধ্যক্ষ ডা. মো. মেহেদী নেওয়াজ বলেন, আমরা এই মুহূর্তে দ্বিতীয় ইউনিট তৈরি করছি না। তবে আইসিইউ শয্যার সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছি। একই সঙ্গে সামর্থ্য অনুয়ায়ী কিছু শয্যার সংখ্যা বাড়ানো হতে পারে। এছাড়া আমরা চেষ্টা করছি শতভাগ সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন স্থাপনের। তিনি বলেন, আইসিইউ শয্যার সংখ্যা কয়টি বাড়ানো হচ্ছে—সেটি নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। তবে ইউনিসেফের সহায়তায় ১০টি আইসিইউ শয্যাসহ মোট ২৫ থেকে ৩০টা শয্যা প্রস্তুত করা হতে পারে।

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. এ টি এম মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, আশা করা যায় প্রস্তাবিত বর্ধিত আইসিইউ শয্যাসহ সকল কার্যক্রম আগামী ১০-১২ দিনের ভেতর সম্পন্ন হবে। শয্যাসহ শতভাগ সেন্ট্রাল অক্সিজেন চালু হলে পূর্বের তুলনায় রোগীর ভোগান্তি কমে আসবে।

উল্লেখ্য, খুলনা বিভাগে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৫২৭ জনের। এর মধ্যে খুলনা জেলায় সর্বোচ্চ সংখ্যক ১৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।