খোশ আমদেদ মাহে রমজান

আজ ১৪২ হিজরির রমজানুল মোবারকের রহমতের দশকের শেষ দিনটি অতিবাহিত হচ্ছে। আগামীকাল থেকে শুরু হবে রমজানের মাগফিরাতের দশকের যাত্রা। মহান আল্লাহপাক ঘোষণা করেন, ‘লা তাকনাতু মির রাহমাতিল্লাহ।’ অর্থাত্ তোমরা কখনো মহান আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ-বঞ্চিত হইও না। করোনা ভাইরাসে সারা পৃথিবী তছনছ হয়ে গেছে। একমাত্র মহান আল্লাহপাকই জানেন করোনা ভাইরাসের শেষ পরিণতি কী? করোনা ভাইরাসের প্রথম দিকে মানুষ করোনার ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে আল্লাহর কাছে তাওবা করে, আল্লাহমুখী হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে কিছু কিছু মানুষের মনের ভয়ভীতি দূর হয়ে তাদের অন্তরটা কষ্টি পাথর ও মমির মতো শক্ত হয়ে যায়। করোনার টিকা আবিষ্কারের পর আরো ডোন্ট কেয়ার মনোভাব লক্ষ করা যাচ্ছে অনেকের মধ্যে। এ বিষয়ে মহান আল্লাহপাক পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করেন, ‘ফি কুলুবিহিম মারাজুন। ফাজাদাহুমুল্লাহু মারাজা।’ তাদের অন্তঃকরণ রোগাক্রান্ত। অতঃপর আল্লাহপাক তাদের রোগকে আরো বৃদ্ধি করে দিয়েছেন। (সুরা বাকারা)

যখন করোনা ভাইরাস কিছুটা কমে, তখন মানুষ আল্লাহর কাছে তওবার পথ থেকে ফিরে এসে আবার সেই আগের মতো লাফালাফি, ভায়োলেন্স ইত্যাদি শুরু করে দেয়। আবার যখন করোনা ভাইরাস বাড়তে থাকে, তখন তাদের মন শক্ত হয়ে যায়। তাদের মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দিতে চাইলে তারা বলে, মরতে হবে তো একদিন। তাদের মনটি হয়ে যায় কঠোর শক্ত মনের অধিকারী। অন্তরে রোগ-ব্যাধি সৃষ্টি হওয়ার কারণেই আমাদের মাঝখান থেকে মহান আল্লাহপাক শান্তি সাময়িকভাবে উঠিয়ে নিয়েছেন। করমর্দন, মুছাফাহা ও মোয়ানাকা—অর্থাত্ বুক মোলাকাতের মতো আল্লাহর রহমতের বড় নেয়ামত। করোনা ভাইরাসের কারণে করমর্দন, মুছাফাহা ও মোয়ানাকা বুক মোলাকাতের আমলটি স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে গিয়ে সেটা আর এখন আমাদের মধ্যে নেই। অতএব, এখন আমরা মানবিক গুণাবলি ও সামাজিক গুণাবলি থেকে অনেক দূরে।

মহান আল্লাহপাক আরো বলেন, ‘ইয়াকাদুল বারকু ইয়াখতাফু আবছারাহুম। কুল্লামা আজায়া লাহুম মাশাও ফিহি।’ অর্থাত্, আকাশের বিজলির মতো যখন সামান্য আলোকিত হয়, তখন কিছুটা পথ চলে। আবার যখন অন্ধকার হয়ে যায়, তখন ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে। (সুরা বাকারা) অতএব, করোনার সময়টা আল-কোরআনের উপরোল্লিখিত সময়ের মতোই। আকাশের বিজলির আলোয় সামান্য মুহূর্তে আলোকিত হয়ে ক্ষণিকের জন্য আলোকিত পথ দেখা যায়। কিন্তু আকাশে বিজলি চমকানোটা বন্ধ হয়ে গেলেই আবার সেই আগের মতোই অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে রাস্তায় শিকের মতো ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। অনুরূপ করোনা ভাইরাস রোগটা কখনো কমতে থাকে, আবার কখনো বাড়তে থাকে। এর পরও আমরা মানবজাতি মহান আল্লাহর বান্দা হিসেবে আল্লাহপাকের অশেষ রহমত থেকে কখনো নিরাশ নই। পবিত্র রমজান মাসের অগণিত, অসংখ্য, মুষলধারে অবারিত রহমতের চাদরে পরিবেষ্টিত করে মহান আল্লাহপাক আমাদের ক্ষমা করে দিন এবং রমজানের রহমতের দিবসের অছিলায় মহান আল্লাহপাক আমাদের অন্তরের সব রোগব্যাধি দূর করে রহমতের নূর দিয়ে আমাদের সবার অন্তর নরম দিলওয়ালা, নেককার ও সালেহিনদের অন্তর্ভুক্ত করে নিন, মহান আল্লাহর কাছে এই মোনাজাত করি আমরা।

লেখক :অতিথি অনুবাদক, মক্কা আল মুকাররামাহ ও সাবেক খতিব, জাতীয় সংসদ জামে মসজিদ, ঢাকা