করোনার তৃতীয় ঢেউ এলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হবে না -----------------স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক এমপি বলেছেন, ‘বর্তমান বিশ্বে প্রায় ১০০ কোটি মানুষ পুষ্টিকর খাবার পায় না। আমাদের দেশেও কিছু মানুষ নানা কারণে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করতে পারে না। বর্তমানে প্রায় সব ধরনের ফলমূলেই বিষাক্ত কেমিক্যাল মেশানো হচ্ছে—যা স্বাস্থ্যের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর। এ কারণে খাদ্যে ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।’

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে অনলাইনে জুম অ্যাপের মাধ্যমে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ-২০২১ উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সভায় জানান, ‘করোনার দ্বিতীয় ঢেউ দেশের মানুষকে নানা সংকটে ফেলেছে। লকডাউন-সংক্রান্ত সরকারের সব নির্দেশনা সবাইকে যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। দেশের সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে এবং ভবিষ্যতে যাতে আবার করোনার তৃতীয় ঢেউ চলে আসতে না পারে সেদিকেও এখন থেকে সতর্ক থাকতে হবে।’ স্বাস্থ্যবিধি না মানার পরিপ্রেক্ষিতে দেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের তৃতীয় ঢেউ এলে, বারবার এমন পরিস্থিতি হলে সামাল দেওয়া ‘সম্ভব হবে না’ জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কত চিকিত্সা দেব? কত বেড, কত হাইফ্লো ন্যাজল ক্যানোলা বাড়াব? কত অক্সিজেনের ব্যবস্থা করব? হাসপাতাল ও হাসপাতালের বেড রাতারাতি বাড়ানো যায় না। তারপরও আমরা আড়াই হাজার বেড থেকে ৭-৮ হাজার বেডে উন্নীত করেছি। যার ফলে ১০ গুণ রোগীও সামাল দিতে সক্ষম হয়েছি। কিন্তু বারবার এটা সম্ভব হবে না।’

সভায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম বলেন, ২০৪০ সালের মধ্যে সবার জন্য পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে। বিএমএ সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহীউদ্দীন বলেন, এই কোভিডকালীন সময়েও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।

উল্লেখ্য, এবারের পুষ্টি সপ্তাহ আগামী ২৩ এপ্রিল থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। এ সময়ের মধ্যে দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রে সাত দিনব্যাপী সাত ধরনের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হবে। এ বছর জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের প্রতিপাদ্য রাখা হয়েছে—‘খাদ্যের কথা ভাবলে, পুষ্টির কথা ভাবুন।’

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব লোকমান হোসেন মিয়ার সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন স্বাচিপ মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম আব্দুল আজিজসহ অন্য চিকিত্সক নেতৃবৃন্দ। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় পুষ্টি সেবার লাইন ডাইরেক্টর ডা. এস এম মোস্তাফিজুর রহমান।