কৃষ্ণাঙ্গদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন কি ঘটেছে?

শফিকুর রহমান রয়েল

 

কাকতালীয় হোক আর যাই হোক, নভেল করোনা ভাইরাস দক্ষিণ আফ্রিকার কৃষ্ণাঙ্গ জনপদগুলোতেই তুলনামূলকভাবে বেশি আঘাত হানছে; আক্রান্ত হওয়া এবং মৃত্যুর হারও সাদাদের চেয়ে তাদের বেশি। তবে সরকারিভাবে অবহেলা বা কম সচেতন করে তোলার বিষয়টিকে মোটেও পাত্তা দেওয়া হচ্ছে না। তবুও যেন কথা থেকে যায়। কাগজে-কলমে বর্ণবৈষম্যের অবসান ঘটেছে ২২ বছরেরও বেশি সময় আগে; নেলসন ম্যান্ডেলা গত হওয়ার পর কেটে গেছে বেশ কিছু বছর, কিন্তু এখন পর্যন্ত পৃথিবীর যে কয়েকটি দেশে সবচেয়ে বেশি অসম সমাজব্যবস্থা টিকে রয়েছে, তার মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা অন্যতম। দেশটিতে ধনী-গরিবের ব্যবধান আরো বাড়ছে এবং বিস্ময়কর তথ্য হল—এর মধ্যে এখনো রয়েছে বর্ণবৈষম্যের ‘গন্ধ’। দুই দশকেরও বেশি সময়ের অসম অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে শ্বেতাঙ্গ সংখ্যালঘুদের অর্থনৈতিক অবস্থা আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে ভালো। পক্ষান্তরে এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি কৃষ্ণাঙ্গ চাকরির জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছে, অর্থাত্ বেকার; কিন্তু শ্বেতাঙ্গ তরুণদের বেলায় এ ব্যাপারটি তেমন ঘটছে না—এসব তথ্য জানা গেছে অক্সফামের সাম্প্রতিক এক রিপোর্ট থেকে। এতে সরকারের নড়েচড়ে বসার কথা থাকলেও থাকছে নির্বিকার।

বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার যে কোনোভাবে সাধারণ নির্বাচনে জিতলেও তাদের জনসমর্থন কমেছে। কিন্তু বর্তমান সরকার সগৌরবে প্রচার করছে দেশের অবস্থা গত ২০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভালো। ১.৬০ মার্কিন ডলারে দিন পার করা লোকের সংখ্যা ২০০০ ও ২০১১ সালে ছিল যথাক্রমে মোট জনসংখ্যার ৪২.৪ ও ২৯.২ শতাংশ। তা এখন ২৫ শতাংশের মতো। বেড়েছে গড় আয়ু। এইডসে মৃত্যুর হার কমে আসাতেই এমনটি সম্ভব হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় চালু রয়েছে এইডস-বিষয়ক সর্ববৃহত্ চিকিত্সা কর্মসূচি। গত ২০ বছরে সরকার বাড়ি নির্মাণ করে দিয়েছে ৩০ লাখ ৭০ হাজার। সমাজকল্যাণ অনুদান পাওয়া লোকের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৬০ লাখ। উত্থান ঘটেছে নতুন কৃষ্ণাঙ্গ মধ্যবিত্ত শ্রেণির। কালো ছাত্রদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সংখ্যা গত কয়েক বছরেই দ্বিগুণ বেড়েছে।

সরকার বলছে, গ্লাস অর্ধেকটা খালি না অর্ধেকটা ভর্তি, কোন দৃষ্টিতে দেখব তাই মুখ্য। কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, বিষয়টা আসলে তেমন নয়। উঠে আসছে আফ্রিকা, এ কথাটি এখন বিশ্ব জুড়েই প্রচারিত হচ্ছে। মহাদেশের অনেক দেশই ডাবল ডিজিটের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি উপভোগ করছে। সে জায়গায় এ বছর দক্ষিণ আফ্রিকা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশা করছে মাত্র ১ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০১৪ সালেই তারা আফ্রিকার সর্ববৃহত্ অর্থনীতির স্থানটি হারিয়েছে নাইজেরিয়ার কাছে। দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও অসমতা দক্ষিণ আফ্রিকাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রেখেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সাদারাই এখন পর্যন্ত সব ‘অর্থনৈতিক নিরাপত্তারক্ষী’। যে কারণে অবস্থার উন্নতি ঘটছে না। উপরন্তু অধিকাংশের অবস্থা আরো খারাপ হচ্ছে। সরকারি চাকরির বড় পদগুলো এখন পর্যন্ত শ্বেতাঙ্গদেরই দখলে। কল-কারখানার মালিকও তারাই বেশি। কার্যত কালোদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এখন পর্যন্ত তেমন একটা ঘটেনি। —দ্য গার্ডিয়ান অনুসরণে