এক জীবনে অভিনেত্রী ও কণ্ঠশিল্পী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্তির অহঙ্কার তার ক্যারিয়ারেই। এদেশে তার মতো স্টেজ মাতানো শিল্পী হাতেগোনা। একইসঙ্গে সহকর্মী থেকে শুরু করে যে কারো কঠিন সংকটে সহমর্মী হয়ে পাশে দাঁড়ানো মানুষটির নামও আঁখি আলমগীর। দেশের জনপ্রিয় এই কণ্ঠশিল্পী সমসাময়িক নানা প্রসঙ্গে কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এম এ রুবেল
বর্তমান ব্যস্ততা নিয়ে জানতে চাই—
আমি আসলে রোজার মাসে কোনো কাজ করি না। তাছাড়া করোনার এই সময়ে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করারও ইচ্ছে নেই। তাই দু-মাস নতুন গান থেকে দূরে থাকছি।
করোনাকালীন অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। বিষয়টি কতটা ইতিবাচক বলে মনে করছেন?
যারা কাজ করছেন তারা হয়তো তাদের প্রয়োজনেই করছেন। তবে যত সাবধানেই কাজ করা হোক, ঝুঁকি কিন্তু থাকছেই। কারণ গান বা অভিনয়ে মাস্ক খুলতেই হবে। দূরত্ব বজায় রাখাও সম্ভব নয়। তারকাদের কাজের ক্ষেত্রে আসলে ‘নিরাপত্তা সর্বাগ্রে’ কথাটি গ্রহণযোগ্য নয়।
আপনার বাবা গুণী অভিনেতা আলমগীরও করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। ওনার বর্তমান অবস্থা কেমন?
আলহামদুলিল্লাহ। এখন আব্বুর শারীরিক অবস্থা অনেকটা ভালো। শিগগিরই আব্বু পুরোপুরি সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরবেন। সকলের কাছে আব্বুর জন্য দোয়া চাই।
করোনার কারণে সংগীতাঙ্গনের অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এমন অবস্থায় নতুন প্রজন্ম সংগীতে আসার আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে কি-না...
না, আমার মনে হয় আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে না। বরং এই সময়ে তারা নিজেদের আরো শানিত করে সংগীতে আসতে পারবে। আমাদের এই অবস্থা তো আর সবসময় থাকবে না। শিগগিরই ভালো হবে, সবাই আগের মতো কাজে ফিরবে।
এখনকার গান শ্রোতাদের হূদয় স্পর্শ করছে না। দু-একটি গান শ্রোতাপ্রিয় হলেও ক’দিনেই হারিয়ে যাচ্ছে। এর কারণ কী বলে মনে করছেন?
এর প্রধান কারণ হলো গান শোনার মাধ্যম পরিবর্তন হয়েছে। পাশাপাশি গান রিলিজের মাধ্যম, মানুষের জীবনযাত্রার মান পরিবর্তিত হয়েছে। তাছাড়া বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে এই অল্প সময়ও ভাগ হয়ে যাচ্ছে। একটা সময় মানুষ একটি অ্যালবামের সব গান শুনতো, সেখান থেকে কোনো না কোনো গান ভালো লাগতো। এখন তো সেটা হচ্ছে না।
এখন ভিউ বাণিজ্যের কারণে অনেক মানহীন কাজও ভাইরাল হচ্ছে। একজন প্রতিষ্ঠিত শিল্পী হিসেবে বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?
এমন চটু কথার গান আগেও ছিল, এখনো আছে। আবার অনেকেই আলোচনায় আসতে এমন কাজ করে থাকেন। তবে এই ক্ষণিক ভাইরাল হওয়া শিল্পী বা গান সময়ের সঙ্গেই হারিয়ে যায়। দিনশেষে যোগ্যতা আর ভালো গান দিয়েই ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকতে হয়।
অনেকেই বলেন মিউজিক ভিডিও গানের স্বকীয়তা নষ্ট করছে। এ বিষয়ে আপনি কী বলবেন?
তাদের দৃষ্টিতে হয়তো এটা ঠিক আছে। কিন্তু আমাদের সময়ের সঙ্গে চলতে হবে। যুগের চাহিদায় যেটা করা দরকার সেটা করতে হবে।
স্বজনপ্রীতি নিয়ে নতুন প্রজন্মের অনেকেই কথা বলে থাকেন। নতুন শিল্পী উঠে আসার পেছনে এটা এক ধরনের প্রতিবন্ধকতা বলা যায়। এ নিয়ে কী বলবেন?
স্বজনপ্রীতি দিয়ে ভালো শিল্পী হওয়া যায় না। তাছাড়া ইন্ডাস্ট্রিতে বাবা-মা নয়, নিজের যোগ্যতা দিয়ে প্রতিষ্ঠা পেতে হয়। ব্যর্থরা আসলে এমন কথা বলে থাকেন। নিজের কাজ ঠিক করতে হবে, উঠোনের দোষ দিয়ে লাভ নেই।
সংগীতের সোনালি যুগ থেকে কাজ করছেন। সেই জায়গা থেকে দেশের সংগীতের বর্তমান অবস্থা কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
এখন আমাদের মাঝে শখ্য, সততা, একতার অনেক অভাব রয়েছে। তখন আমাদের মাঝে কাজ নিয়ে প্রতিযোগিতা ছিল। নিজেদের মধ্যে আন্তরিকতা, ভালোবাসা ছিল। এখন ব্যক্তিগত ভাব-ভালোবাসা আছে, কিন্তু কাজের ক্ষেত্র ছোট হয়ে গেছে।
এটা কী এককভাবে গান রিলিজের কারণে হচ্ছে?
ঠিক তা না। কোনো শিল্পীই চায় না একা কোনো গান রিলিজ দিতে। কিন্তু তারা এখন অসহায়, অপারগ। কারণ মানুষ সিডি বা ক্যাসেট না কিনলে প্রকাশক কেন গান বের করবে! এমন অবস্থায় শিল্পীরা যাবে কোথায়!
দীর্ঘ সংগীতজীবনের সেরা প্রাপ্তি কোনটাকে বলবেন?
এখনো জীবনের সেরা কাজটি করতে পারিনি। কারণ এখনো তো নিজেকে সেরা শিল্পীই তৈরি করতে পারিনি। যদিও কিছু গান ভালো হয়েছে, জাতীয় পুরস্কার পেয়েছি। আরো ভালো গান করতে চাই।