শরণখোলা বনাঞ্চলের চারা গাছ খাচ্ছে মহিষের পাল

নাসিম আলী, পিরোজপুর অফিস ও শেখ মোহাম্মদ আলী, শরণখোলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা

সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের ডুমুরিয়া ও চরখালী টহল ফাঁড়ি এলাকায় চরে বেড়াচ্ছে শত শত মহিষ। মহিষের পাল নতুন গজিয়ে ওঠা চারাগাছসহ সংরক্ষিত বনের গাছপালা, তরুলতা সাবাড় করছে। ফলে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বনায়ন। প্রত্যক্ষদর্শী ও নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, বনের আশপাশের কৃষকরা তাদের পালিত মহিষের পাল ঘাষ খাওয়ানোর জন্য সুন্দরবনের ডুমুরিয়া ও চরখালীর বনে ছেড়ে দিয়ে যায়। বগী ফরেস্ট স্টেশনের অধীন ডুমুরিয়া ও চরখালী ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির বনরক্ষীদের ম্যানেজ করে শরণখোলার সাউথখালী ইউনিয়নের বগী, চালিতাবুনিয়া, তেরাবাঁকা ও পিরোজপুরের মঠবাড়ীয়ার সাপলেজা, নলী এবং বরগুনার পাথরঘাটার চরদুয়ানী, কাঠালতলী প্রভৃতি এলাকার মহিষের মালিকরা অর্থের বিনিময় এ সুযোগ নিচ্ছে। শত শত মহিষ দিবারাত্রি বনের মধ্যে চড়ে বেড়ায় এবং বনে গজিয়ে ওঠা চারা গাছসহ অন্য গাছপালা খেয়ে সাবাড় করছে। বর্তমানে প্রায় ৩০০ মহিষ ডুমুরিয়া থেকে চরখালী হয়ে সুদূর শাপলা টহল ফাঁড়ি পর্যন্ত বিচরণ করছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নির্ভরযোগ্য সূত্রটি জানায়, বনে মহিষ চড়ানোর জন্য টহল ফাঁড়ির বনরক্ষীদের মাসিক চুক্তিতে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হয়। মহিষের মালিকরা সম্মিলিতভাবে টাকা পরিশোধ করে থাকে।

এ ব্যাপারে বগী ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা সাদিক মাহমুদ বলেন, তিনি এখানে নতুন এসেছেন। বনে মহিষ চড়ে বেড়ানোর কথা জানতে পেরে তিনি ডুমুরিয়া ও চরখালী টহল ফাঁড়িকে চিঠি দিয়ে মহিষ সরিয়ে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান। পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, সুন্দরবনে মহিষ চড়ানোর কথা তার জানা নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।