কমছে দাম
মো. তুহিনুর রহমান, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা
ভৈরব বন্দরে মোকামগুলোতে নতুন ধানের আমদানি শুরু হয়েছে। এতে ধানের দামও কমে যাচ্ছে। এদিকে হাওরে প্রায় ৪০ শতাংশ জমির বোরো ধান কাটা শেষ হয়েছে। আড়তগুলোতে প্রতিদিন হাওর থেকে নৌপথে হাজার হাজার মণ ধান আসছে। কিন্তু বাজারে ধানের ন্যায্য দাম না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষক। জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চল অষ্টগ্রাম, মিঠামইন, ইটনাসহ হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা ও সিলেট জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নদী পথে ভৈরবের আড়তগুলোতে প্রতিদিন হাজার হাজার মণ ধান আসছে। এসব ধান প্রতি মণ (মোটা) ৬৪০ টাকা থেকে ৬৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর (চিকন) প্রতি মণ ধান ৭৫০ টাকা থেকে ৭৮০টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কৃষকরা জানান, প্রতি বিঘা জমিতে উত্পাদন বাবদ বীজ রোপণ, পরিচর্যা, সার, কীটনাশক ও সেচের জ্বালানি তেলসহ সব মিলিয়ে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা খরচ হয়। আর বিঘা প্রতি গড়ে ১৫ থেকে ১৮ মণ ধান উত্পাদন হয়। ফলে প্রতি মণ ধান ৭০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা দর জমিতেই পড়েছে। কিন্তু বাজারে সেই ধান তার চেয়েও কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এছাড়া এক মণ ধানের দাম দিয়ে এক জন শ্রমিকের মাত্র এক দিনের মজুরি পরিশোধ করতে পারেন তারা। এদিকে বাজারে প্রচুর পরিমাণে নতুন চাল আমদানি হওয়ায়, চালের দামও কমে গেছে। ফলে ধানের বাজারে এর প্রভাব পড়েছে।
বাজারে দাম কমার পেছেনের কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা জানান, আমদানিকৃত বেশির ভাগ নতুন ধান ভেজা থাকায় ওজন বেড়ে যায়। ফলে চাল ব্যবসায়ীরা কম দামে ধান কিনতে চান। এদিকে ধানের অভাবে গত তিন মাস যাবত্ অধিকাংশ রাইস মিল বন্ধ ছিল। নতুন ধান আমদানি হওয়ার কারণে রাইস মিলগুলো পুনরায় চালু হয়েছে। কিশোরগঞ্জের কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, এবার কিশোরগঞ্জ জেলায় ১ লাখ ৬৬ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এসব ধান মুন্সীগঞ্জের মিরকাদিম, চাঁদপুর, আশুগঞ্জসহ ভৈরবের আশপাশের উপজেলার রাইস মিলগুলোতে পাইকাররা নিয়ে যাচ্ছে। ভৈরব চেম্বারের সভাপতি আলহাজ মো. হুমায়ূন কবির জানান, ভৈরব বাজারে প্রতিদিন হাজার হাজার মণ নতুন ধান আমদানি হচ্ছে। বর্তমানে নতুন ধান আমদানির সঙ্গে সঙ্গে প্রতি মণে ৬০০ টাকা কমে গেছে। ধানের দাম কমার কারণে চালের দামও কমে যাবে। কিশোরগঞ্জের কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাইফুল আলম জানান, এই জেলায় এবার ৭ লাখ ১১ হাজার ৫৮০ মণ চাল উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হবে।