হিজলবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
টেকেরহাট (মাদারীপুর) সংবাদদাতা
রাজৈরের হিজলবাড়ী ১৩২ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাকা ভবন না থাকায় পাঠদান চলছে দোচালা টিনের ঘরে। ঐ টিনের ঘরে গাদাগাদি করে চলে পাঁচটি শ্রেণির শিশুশিক্ষার্থীদের পাঠদান। গরমের সময় রোদে টিনের ঘরটি আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ঐ সময় শিশুশিক্ষার্থীরা গরমে অস্থির হয়ে পড়ে। এতে ব্যাহত হয় পাঠদান।
উপজেলার দক্ষিণ সীমান্তে ৪২ শতক জমির ওপর ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় হিজলবাড়ী রেজিস্ট্রারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ২০১৩ সালে সরকারিকরণ হওয়ার পর ১৩২ নম্বর হিজলবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নামকরণ হয়।
টিনের ঘরে পাঠদানে সমস্যার কথা স্বীকার করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাগর সরকার জানান, বিদ্যালয়ের পশ্চিম ও দক্ষিণ পাশে রয়েছে ডোবা পুকুর। বর্ষাকালে সামনের মাঠটিও ডুবে যায়। এ কারণে শতাধিক শিশু ছাত্রছাত্রী নিয়ে সব সময় শঙ্কায় সময় পাড় করতে হয়। স্যানিটেশন ব্যবস্থাও নাজুক। নেই স্বাস্থ্যসম্মত সুপেয় পানির ব্যবস্থা। এছাড়া সীমানাপ্রাচীর না থাকায় পার্শ্ববর্তীরা জমি দখলের চেষ্টা করছে। পার্শ্ববর্তী কয়েক জন যাতায়াতের পথ আটকে দেওয়ায় এবং এলাকার প্রধান সড়কগুলোর সঙ্গে বিদ্যালয়ের কোনো সংযোগ রাস্তা না থাকায় শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে।
বিদ্যালয় কমিটির সদস্য প্রকাশ কীর্ত্তনীয়া জানান, ২০১৭ সালে ভবন নির্মাণে টেন্ডার আহ্বান ও ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হলেও অদৃশ্য কারণে নির্মাণকাজ বাতিল হয়ে গেছে।
মাদারীপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাসিরউদ্দিন জানান, উপজেলার প্রায় সবগুলো বিদ্যালয়ে পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। যাতায়াত সুবিধাসম্পন্ন কোনো কোনো বিদ্যালয়ে দুটি থেকে তিনটি পাকা ভবন রয়েছে। শুধুমাত্র এ বিদ্যালয়টিতে ছোট একটি দোচালা টিনের ঘর রয়েছে। যা পাঠদানে যোগ্য নয়। এখানে দ্রুত ওয়াশব্লকসহ তিন তলা পাকা ভবন নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়েছে।