নড়াইলে বিপাকে ভোক্তারা
নড়াইল প্রতিনিধি
নড়াইলের অধিকাংশ মানুষ টিসিবি পণ্যের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। জেলায় সরকারিভাবে নিয়োগ দেওয়া ৩১ জন ডিলারের মধ্যে মাত্র ১৪ জন টিসিবি পণ্য উত্তোলন করছেন। করোনার প্রভাবে খুচরা বাজারে বিভিন্ন পণ্য চড়া মূল্যে বিক্রি হওয়ায় টিসিবি পণ্যের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও তালিকাভুক্ত ডিলাররা পণ্য উত্তোলন না করায় সাধারণ গ্রাহকরা সরকারি পণ্য পাচ্ছেন না।
নড়াইল সদর উপজেলায় টিসিবি পণ্য উত্তোলনকারী একমাত্র ভ্রাম্যমাণ ডিলার হাফেজা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সিঙ্গাশোলপুর বাজারের বেনজির আহম্মেদ বুলু বলেন, টিসিবি খুলনা থেকে প্রতি বার ১ হাজার ২০০ লিটার তেল, ছোলা ১ হাজার কেজি, চিনি ৭০০ কেজি, ডাল ৩০০ কেজি এবং খেজুর ১০০ কেজি করে পণ্য তুলছি। বাজারে এসব পণ্যের চাহিদা থাকায় ফুরিয়ে গেলে পুনরায় এনে বিক্রি করছি। জেলা প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী জেলা সদরসহ বিভিন্ন এলাকায় টিসিবি পণ্য বিক্রি করছি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নড়াইল শহরের এক ভোক্তা বলেন, করোনার প্রভাব এবং রমজান মাসে আমাদের মালামাল কিনতে নাভিশ্বাস উঠছে। টিসিবির ডিলাররা সবাই পণ্য উত্তোলন করলে মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ অনায়াসে সরকারি সুবিধার এসব পণ্য কিনতে পারতাম। বিষয়টি প্রশাসনের দেখা উচিত।
টিসিবি খুলনা বিভাগীয় প্রধান মো. আনিচুর রহমান বলেন, করোনার প্রভাব এবং রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু ভোজ্য পণ্যের মূল্য স্বাভাবিক রাখতে এবং সাধারণ মানুষের কেনার সুবিধার্থে গত ১৮ মার্চ থেকে নড়াইলে টিসিবি পণ্য বিক্রি শুরু করেছে। এক কেজি টিসিবির ছোলা ৫৫ টাকা, মসুর ডাল ৫৫ টাকা, চিনি ৫৫ টাকা, পেঁয়াজ ২০ টাকা, খেজুর ৮০ টাকা এবং এক লিটার সয়াবিন তেল ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সেখানে খুচরা বাজারে এক কেজি ছোলা ৬৫, মসুর ডাল ৭০, চিনি ৬৮ টাকা এবং এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৩৯ টাকা, খেজুর ১২০ এবং পেঁয়াজ ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে জেলায় টিসিবি পণ্যের বেশ চাহিদা রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে নড়াইল জেলায় টিসিবির মোট ৩১ জন সাধারণ এবং ভ্রাম্যমাণ (ট্রাকে বিক্রি) ডিলার থাকলেও সদরে ১০ জনের মধ্যে একজন, লোহাগড়ায় ১৪ জনের মধ্যে আট জন এবং কালিয়ায় সাত জনের মধ্যে পাঁচ জন পণ্য তুলছেন। যেসব ডিলার টিসিবি পণ্য তুলছেন না এবং ডিলারশিপ নবায়ন করেননি রমজানের পর তাদের ব্যাপারে হেড অফিসে জানানো হবে। হেড অফিসের সুপারিশ নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নড়াইলের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, যাতে প্রত্যেক ডিলার টিসিবি পণ্য উত্তোলন করেন সেজন্য চেষ্টা করব।