মতিউর রহমান, দিনাজপুর অফিস
পবিত্র রমজানে রোজা রাখছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। সামনে পবিত্র ঈদুল ফিতর। পাশাপাশি করোনা পরিস্থিতিও ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। এরই মধ্যে সরকার এক সপ্তাহের লকডাউন দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত বাড়িয়েছে। আনন্দময় এই ঈদ এবারও হয়তো ঘরেই কাটাতে হবে। পরিস্থিতি যা-ই হোক নতুন কাপড় ছাড়া তো আর ঈদ ভাবাই যায় না। তাই দিনাজপুরে এরই মধ্যে চলছে ঈদের প্রস্তুতি, কেনাকাটাও বন্ধ নেই। আর ঘরে বসেই এই কেনাকাটার সুযোগ করে দিয়েছে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ‘অনলাইন’। ঘরে বসেই বিক্রেতা ও ক্রেতার সমন্বয় ঘটাতে ব্যবহূত হচ্ছে এই অনলাইন। ঈদের কেনাকাটায় ক্রেতাদের সুবিধার্থে দিনাজপুরে গড়ে উঠেছে বেশকিছু উদ্যোক্তা ও বিক্রেতা। ঈদকে সামনে রেখে বাহারি পোশাকের সমারোহ ঘটিয়েছে স্থানীয় এসব বিক্রেতা ও উদ্যোক্তারা। ঘরে বসেই অনলাইনে ঈদের কেনাকাটা বেশ জমে উঠতে শুরু করেছে দিনাজপুরে।
করোনা মহামারির এ কঠিন সময়ে বাড়ি থেকে বের না হয়ে অনেকেই ঈদের কেনাকাটা সারছেন অনলাইনে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তা গ্রুপের মধ্যে ‘দিনাজপুরের উদ্যোক্তাবর্গ’ ‘অঞ্জলী অনলাইন’, ‘রাহিনুর ইসলাম সিদ্দিকী’, ‘রাইসা ঝিলম’, ‘মাহজাবিন রিজা’, ‘নাজনীন সুইটি’ অন্যতম। এছাড়াও লকডাউনে ঈদের কেনাকাটা সারতে শহরের বেশকিছু দোকানও অনলাইনে বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে এগুলোর মধ্যে অসংখ্য উদ্যোক্তার সমন্বয়ে গঠিত ‘দিনাজপুরের উদ্যোক্তাবর্গ’ গ্রুপটি ইতিমধ্যেই বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। ফেসবুকে এসব আইডিতে প্রবেশ করে ঘরে বসেই যে কেউ পছন্দের ঈদের কেনাকাটা সেরে নিতে পারবেন।
এ বিষয়ে কথা হয় ‘দিনাজপুরের উদ্যোক্তাবর্গ’ গ্রুপের এডমিন সম্পা দাস মৌ-এর সঙ্গে। তার সঙ্গে এই গ্রুপে মোডারেটর হিসেবে রয়েছেন হুমায়ুন কবীর প্রধান, রুখসানা ফেরদৌস, নাসিবা শাহরিয়ার ও সানজিদা। তিনি জানালেন, তাদের গ্রুপের এখন সদস্য সংখ্যা প্রায় ১৪ হাজার। শুধু ঈদের কেনাকাটা নয়, বিভিন্ন ধরনের পণ্য তারা এই গ্রুপের মধ্যে অনলাইনে সরবরাহ করছেন। তবে এই লকডাউনে ঈদের জন্য তারা নিয়েছেন বিশেষ প্রস্তুতি। পাঞ্জাবি, সব রকমের শাড়ি, বিভিন্ন ডিজাইনের থ্রি-পিস, জুতাসহ ঈদের সব পণ্যই তারা অনলাইনে সরবরাহ করছেন। ফেসবুকে এই গ্রুপে ঢুকলেই ক্রেতারা তাদের পণ্য দেখতে পারবেন এবং দামও জানতে পারবেন। ভিডিও আকারেও পণ্যগুলো পোস্ট করা হয় বলে জানান তিনি। তিনি জানান, ভিডিও কলের মাধ্যমেও তারা ক্রেতাদের পণ্য দেখান এবং প্রতিদিন বিভিন্ন পণ্য নিয়ে ফেসবুকে লাইভও করেন তারা।
রাহিনুর ইসলাম সিদ্দিকী নামে দিনাজপুরের আরেক উদ্যোক্তা তার ফেসবুক পেজে লিখেন, তাদের পাঞ্জাবি এখন দারাজ ডট কম-তেও পাওয়া যাচ্ছে। এই করোনায় ঘরে বসেই ঈদের শপিং করার আহ্বান জানান তিনি। অন্য উদ্যোক্তারাও বলেন, করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাই অনলাইনে কেনাকাটা করুক। এরই মধ্যে অনলাইন পেইজ থেকে ক্রেতারা ঈদের কেনাকাটা করছেন। গত বছরের চেয়ে এ বছর ক্রেতাদের অংশগ্রহণ অনেক বেশি। ক্রেতাদের উদ্দেশ্যে তারা বলেন, যেহেতু এগুলো দিনাজপুরের, তাই এ জেলার মানুষ ভরসা করে কেনাকাটা করতে পারেন।