‘প্রধানমন্ত্রীর উপহার’ ঘর দেওয়ার নামে প্রতারণা

 

ঘিওরে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

মো. শফি আলম, ঘিওর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা

ঘিওরের বানিয়াজুরি ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে  প্রধানমন্ত্রীর উপহার ‘জমি আছে ঘর নাই’ প্রকল্পের অধীনে সরকারি ঘর দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী কেউ লাখ টাকার বিনিময়ে ঘর পেয়েছেন। আবার কেউ কেউ টাকা দিয়েও ঘর পাচ্ছেন না। নিজেকে ক্ষমতাসীন দলের বড় নেতা দাবি করে দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন এই ইউপি সদস্য। দীর্ঘদিন পার হলেও ঘর ও টাকা ফেরত না দেওয়ায় ভুক্তভোগীরা এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

এদিকে অভিযোগ করার কারণে ভুক্তভোগীদের বাড়ি গিয়ে আইয়ুব খান বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন বলে জানান তারা।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বানিয়াজুরি ইউনিয়নের কুন্দুরাবাড়ীর বাসিন্দা মো. ইকবাল হোসেনকে প্রায় এক থেকে দেড় বছর আগে ইউপি সদস্য মো. আইয়ুব খান ‘প্রধানমন্ত্রীর উপহার’ একটি পাকা ঘর দেওয়ার আশ্বাস দেয়। তিনি ব্যাংকে জমি বন্ধক রেখে ১ লাখ টাকা উঠিয়ে ঘর বাবদ উল্লিখিত ইউপি সদস্যকে ৭০ হাজার টাকা দেন। এক বছর পার হলেও তিনি ঘর পাননি। টাকা ফেরত চাইলে ঘর দেওয়ার নামে নানা টালবাহানা করে ঘোরাতে থাকেন। পরে নিরুপায় হয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ঐ ভুক্তভোগী।

আরেক ভুক্তভোগী বানিয়াজুরী এলাকার রিকশাচালক জাহিদ হোসেন ধার দেনা ও গরু বিক্রি করে মোট ১ লাখ টাকা ইউপি সদস্য আইয়ুব খানের কাছে ঘর বাবদ দিয়েছেন। ঘর পেয়েছেন ঠিকই কিন্তু সে জানে না ঘর পেতে কোনো টাকা পয়সা লাগে না। এ কথা শোনার পর রিকশা চালকের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার মতো অবস্থা। শরীরের ঘাম ঝরানো অর্থ দিয়ে সরকারি ঘর পেয়েছেন, তা মেনে নিতে পারছেন না।

জাহিদ হোসেন বলেন, ‘প্রথমে ৭০ হাজার টাকা মেম্বার আমার কাছ থেকে নিয়েছেন। এরপর বিভিন্ন কায়দায় আরো ৩০ হাজার টাকা নিয়ে আমাকে কোনো রকম একটি ঘর দিয়েছেন। কিন্তু ঘরটি এক বছর যেতে না যেতেই ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে। 

ভুক্তভোগী কৃষক ইকবাল ও রিকশাচালক জাহিদ হোসেন ছাড়াও রাসেল, দাগা, মামুন, নারায়ণ ঘোষ নামে আরো কয়েক জনের কাছ থেকে ঘর দেওয়ার কথা বলে ইউপি সদস্য আইয়ুব খান টাকা আত্মসাত্ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী জানিয়েছেন, ঘর দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে ৬৫ হাজার টাকা আইয়ুব খান নিয়েছিলেন। এক বছর ঘুরানোর পর ঘর না দিয়ে টাকা ফেরত দিয়েছেন। এ ছাড়া রাথুরা গ্রামের বিদেশ প্রবাসী রাসেল ৭০ হাজার টাকার বিনিময়ে তার মায়ের নামে একটি পাকা ঘর পেয়েছেন বলে ভুক্তভোগী ইকবাল হোসেন জানান।

মো. আইয়ুব খান অবশ্য টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, তিনি সরকারি ঘর দেওয়ার কথা বলে কারো কাছ থেকে কোনো টাকা পয়সা নেননি। সব ঘর চেয়ারম্যান দিয়েছেন। তিনি কোনো ঘর কাউকে দেননি। একই সঙ্গে সব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে উড়িয়ে দেন তিনি। তার দাবি দলের নেতৃত্ব নিয়ে কোন্দলের জেরে এ সব গুজব রটিয়ে তার ভাবমূর্তি নষ্ট করা হচ্ছে।

ঘিওর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে অনেক সময়ই অনেকে আমার কাছে নানান অভিযোগের কথা জানিয়েছেন।’ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আইরিন আক্তার জানান, এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানকে অবগত করা হয়েছে এবং অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।