‘ঘরে বসে থাকলে না খেয়েই মারা যাব’

বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে প্রথম দফায় লকডাউন ছিল ১৪ থেকে ২১ এপ্রিল। পরে সময় আরো বাড়িয়ে করা হয়েছে ২৮ এপ্রিল। কিন্তু দিন যতই যাচ্ছে, রাস্তায় বাড়ছে মানুষ ও যানবাহনের উপস্থিতি। পথচারী, রিকশাচালক ও সাধারণ যাত্রীরা বলছেন, শুরুর দিকের তুলনায় এখন অনেকেই লকডাউন মানছেন না। দিন যত গড়াচ্ছে, ততই যেন শিথিল হয়ে পড়ছে বিধিনিষেধও। বিধিনিষেধ চলাকালে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রাস্তায় বের না হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছিল সরকার। যদিও অধিকাংশ মানুষই তা মানছে না। নানা অজুহাতে রাস্তায় বের হচ্ছে তারা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জরিমানা করেও ঘরে রাখতে পারছে না নগরবাসীকে। এতে যে উদ্দেশ্যে এ বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে, তার সুফল নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার অস্থায়ী পুলিশ চেকপোস্টেও দেখা গেছে ঢিলেঢালা ভাব। প্রথম দফার বিধিনিষেধের মতো কার্যকর ভূমিকা পালন করছে না পুলিশ চেকপোস্টগুলো। এছাড়া বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমও কমে গেছে। সর্বাত্মক কঠোর লকডাউনের মধ্যেও গণপরিবহন ছাড়া সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল করছে। গণপরিবহন ছাড়া রাজধানীর সড়কে লকডাউনে সব ধরনের যানবাহনের সংখ্যাও বুধবারের চেয়ে বেড়েছে। কোথাও কোথাও সৃষ্টি হয়েছে যানজট। ছিল রিকশা, সিএনজি অটোরিকশা, প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেলের আধিক্য। কোনো কোনো এলাকার পুলিশ  চেকপোস্টের সামনে গাড়ির দীর্ঘ জটলা দেখা গেছে।

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকার রিকশাচালক ওসমান আলী বলেন, ‘লকডাউনের প্রথম দিকে রাস্তায় তেমন মানুষ বের হয়নি। কিন্তু গত দুই দিন ধরে অনেক বেশি মানুষ রাস্তায় বের হচ্ছে। গাড়ির সংখ্যাও অনেক  বেশি দেখা যাচ্ছে। আগের তুলনায় এখন আমরাও ভালোই যাত্রী পাচ্ছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘লকডাউনের শুরুতে রাস্তায় রিকশা নিয়ে বের হলে পুলিশ ধরতে পারলে রিকশা উলটিয়ে রেখে দিত, কিন্তু এখন সেটা আর বেশি করছে না। আগে জিজ্ঞাসা করত কোথায় যাব বা  কেন বের হয়েছি। কিন্তু এখন অনেকটা স্বাভাবিক মনে হচ্ছে।’

রাস্তায় বের হওয়া অনেকেই জানিয়েছেন, তাদের পক্ষে ঘরে বসে থাকা আর সম্ভব নয়। যারা বের হয়েছেন তারা সবাই নিজেকে স্বল্প আয়ের মানুষ দাবি করছেন। তারা বলছেন, ‘এত দিন ঘরে বসে থাকলে তো না খেয়েই মরে যেতে হবে। তাই বেঁচে থাকার জন্য রাস্তায় বের হয়েছেন কাজের সন্ধানে।’

একাধিক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেক মানুষ জরুরি কাজে ঠিকই বের হয়েছেন। তারা মুভমেন্ট পাশ নিয়ে বের হচ্ছেন। আর যারা হুট করে জরুরি কাজে বের হয়ে গেছেন, তারা মুভমেন্ট পাশ নিয়ে বের হতে পারেননি। তবে তারা উপযুক্ত কারণ  দেখাতে পারছেন। কিন্তু আরেক দল আছে, যারা জরুরি কাজের বাহানা করে বের হলেও আসলে তাদের কোনো জরুরি কাজ নেই। এসব লোকের সংখ্যা দিনে দিনে বাড়ছে। তাদের চেকপোস্টে আটকানোর চেষ্টা করছে পুলিশ। এমনকি জরিমানা করে বাসায়ও ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তারা জানিয়েছেন, লকডাউন শিথিল হয়নি। আগামী ২৮ তারিখ পর্যন্ত কঠোর লকডাউন চলবে দেশে। তবে লকডাউন শুরুর প্রথম দিকে মানুষ রাস্তায় কম বের হয়েছে। আর এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি মানুষ রাস্তায় বের হচ্ছে। সেই সঙ্গে ব্যক্তিগত পরিবহন, রিকশা, সিএনজির সংখ্যাও অনেক বেশি।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কঠোর বিধিনিষেধের নবম দিন গতকালও  ঢাকা ছেড়েছে মানুষ। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় শুরু থেকেই প্রাইভে টকার, মাইক্রোবাস বা মোটরসাইকেলে চড়ে যাত্রীরা ঢাকা ছেড়ে গ্রামে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তবে এসব পরিবহনের ভাড়া বেশি হওয়ায় এখন অনেকেই ট্রাক বা পিকআপে ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি ফিরছে।