সেই মা সুস্থ হয়ে বাড়িতে

 ‘গত ১ মার্চ স্বামীর মৃত্যুর পর সব শক্তি যেন হারিয়ে ফেলেছিলাম। এরপর করোনায় আক্রান্ত হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারাতে বসি। কিন্তু এই বিপদের সময় সন্তানরা আমার পাশে থাকায় হারানো শক্তি আবার ফিরে পেয়েছি আমি। আল্লাহর ইচ্ছায় সন্তানদের ভালোবাসায় আমি আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পেরেছি। টিটু যখন পিঠে অক্সিজেন সিলিন্ডার বেঁধে অক্সিজেন মাস্ক পরিয়ে আমাকে বরিশাল হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিল তখন ভাবতে পারিনি সুস্থ্য হয়ে ফিরে আসতে পারব।’ এভাবেই মোবাইল ফোনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে মনের কথা ব্যক্ত করছিলেন করোনা জয়ী মা রেহানা পারভিন।

পিঠে ২০ কেজি ওজনের অক্সিজেন সিলিন্ডার বেঁধে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার সূর্যপাশা থেকে ১৮ কিলোমিটার পথ মোটরসাইকেল চালিয়ে করোনা আক্রান্ত মাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন জিয়াউল হাসান টুিটু। সঙ্গে ছিল তার ভাই মিঠু। লকডাউনের মধ্যে কোনো যানবাহন না পেয়ে টিটু এভাবেই তার মাকে নিয়ে মোটরসাইকেলে হাসপাতালে নিতে বাধ্য হন। গত ১৭ এপ্রিল হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মাকে ভর্তি করেন টিটু। শেষ পর্যন্ত সুচিকিত্সা দিয়ে মাকে সুস্থ্য করে গতকাল শুক্রবার তাকে নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন টিটু।

অক্সিজেন সিলিন্ডার পিঠে চাপিয়ে মোটরসাইকেলে করে মাকে টিটুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ছবি তুলে একজন গত ১৭ এপ্রিল ফেসবুকে দিয়ে দেন। এরপর তা ভাইরাল হয়ে যায়। মেহেদী হাসান মিঠু ও জিয়াউল হাসান টিটুর মা রেহেনা পারভীন নলছিটি বন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আবদুল হাকিম মোল্লার সহধর্মিণী। তাদের বাড়ি নলছিটি পৌরসভার সূর্যপাশা এলাকায়।

ঝালকাঠি কৃষি ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার জিয়াউল হাসান টিটু গত ছয় দিনের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে বলেন, মাকে নিয়ে যখন বরিশাল রওয়ানা হলাম তখন তার রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা ছিল ৭০ শতাংশ। এখন স্বাভাবিক অবস্থায় ৯৬ শতাংশ আছে। মোটরসাইকেলে করে মাকে সেদিন হাসপাতালে নিয়ে না গেলে তাকে বাঁচানো যেত না। ছয় দিনে ১ লাখ টাকা খরচ হলেও মাকে সুস্থ্য করে বাড়ি নিয়ে আসতে পেরেছি সেজন্য আল্লাহর কাছে হাজার শোকর। ফেসবুকে ছবি দেখে করোনা ইউনিটে মায়ের জন্য রুম পাওয়ার ব্যাপারে আমাদের সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করেছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব স্মৃতি রানী ঘরামী। আমরা তার প্রতি চিরকৃতজ্ঞ। এছাড়া চিকিত্সকসহ সবার কাছেই আমি কৃতজ্ঞ।