আবারও করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুতে ভারতের রেকর্ড

ভারতে আবারও করোনা ভাইরাসে (কোভিড-১৯) সংক্রমণ ও মৃত্যুর রেকর্ড হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে করোনায় মারা গেছেন আরো ২ হাজার ২৬৩ জন। যা ভারতে এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। অন্যদিকে এ সময়ে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩ লাখ ৩২ হাজার ৭৩০ জন। যা কোনো দেশে এক দিনে আক্রান্তের সর্বোচ্চ রেকর্ড। এদিকে করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় হাসপাতালগুলোতে রোগীর ভিড় উপচে পড়ছে। দেশটির বড় বড় শহরের অনেক হাসপাতালে অক্সিজেন সংকট তীব্র হয়ে দেখা দিয়েছে। করোনা পরিস্থিতির অবনতিতে রাজনৈতিকভাবে চাপের মুখে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, মাত্র ছয় সপ্তাহ আগে ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছিলেন তার দেশ কোভিড-১৯ মহামারির শেষপ্রান্তে আছে। কিন্তু গত শুক্রবার আবারও দেশটিতে সর্বোচ্চ আক্রান্তের রেকর্ড হয়েছে। হাসপাতালে অক্সিজেন সংকট চরমে পৌঁছেছে। কোনো কোনো হাসপাতাল সরকারকে জানিয়েছে, তাদের কাছে যে পরিমাণ অক্সিজেন রয়েছে তা দিয়ে মাত্র কয়েক ঘণ্টার চাহিদা মেটানো সম্ভব। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে কয়েকটি হাসপাতালে অক্সিজেন সংকটে ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গত মধ্য মার্চ থেকে ভারতে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়। গত ফেব্রুয়ারি থেকেই অনেক রাজ্য সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। কিন্তু এ সময়ে কেন্দ্রীয় সরকারের নেতৃত্বে শূন্যতা দেখা গেছে। গত কয়েক সপ্তাহে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নীরব ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার তিনি পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝেছেন। সেদিন মধ্যরাতে তিনি জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়ে নতুন পদক্ষেপের কথা জানান। লেখক ও মানবাধিকার কর্মী হর্ষ মান্দারের মতে, নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার ঔদ্ধত্য ও অহমিকা দেখিয়েছে। তাদের সক্ষমতারও ঘাটতি রয়েছে।

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী যিনি নিজেই করোনায় আক্রান্ত, তিনি বলেছেন, অক্সিজেন ও আইসিইউ বেডের সংকটের জন্য বর্তমান মোদি সরকারই দায়ী। টুইটারে এক বার্তায় তিনি বলেন, করোনার কারণে অক্সিজেন লেভেল কমে যায়, কিন্তু অক্সিজেনের সংকট, আইসিইউ বেডের সংকটের জন্য অনেক মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। এজন্য ভারত সরকারই দায়ী।

বৃহস্পতিবার অক্সিজেন সংকট নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করে দিল্লির হাইকোর্ট। বর্তমান পরিস্থিতিকে জাতীয় পর্যায়ে ‘জরুরি অবস্থা’ বলে অভিহিত করে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী গতকাল কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, রাজ্যগুলোর মধ্যে অক্সিজেন সরবরাহে সমন্বয় সাধনের জন্য একটি কন্ট্রোল রুম প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সরকারের আইনজীবী জানান, অক্সিজেনের সরবরাহ নির্বিঘ্ন করতে রাজ্য সরকারগুলোর হস্তক্ষেপ বন্ধের ব্যাপারে নরেন্দ্র মোদি মুখ্যমন্ত্রীদের রাজি করিয়েছেন। অনেক জায়গায় অক্সিজেন ট্যাংকার সশস্ত্র পাহারায় পাঠানো হয়েছে। বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে ভারতকে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে চীন।  

দিল্লির শ্মশানে সংকুলান

হচ্ছে না, লোকালয়েই গণচিতা

করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় দিল্লির শ্মশানে স্থান সংকুলান হচ্ছে না। এ কারণে লোকালয়ে গণচিতায় দাহ করা হচ্ছে অনেকের মরদেহ। আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, সীমাপুরীর বাসিন্দা নীতীশ কুমারের মা কোভিডে আক্রান্ত হয়ে দুই দিন আগে মারা যান। কিন্তু কোনো শ্মশানে মায়ের দেহ দাহ করার জায়গা পাননি তিনি। বাধ্য হয়ে দুই দিন বাড়িতেই মায়ের দেহ রেখে দিয়েছিলেন। শেষমেশ একটি পার্কিং লটে গড়ে ওঠা অস্থায়ী শ্মশানে মাকে দাহ করেছেন তিনি।

নীতীশ বলেন, কোথায় না গিয়েছি। কিন্তু কিছু না কিছু কারণে খালি হাতে ফিরতে হয়েছে। চিতা জ্বালানোর জন্য কাঠ পাওয়া যাচ্ছে না বলেও শুনতে হয়েছে।