আশুলিয়ায় শিশুকে হত্যা করে টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট, যুবক গ্রেফতার

সাভারের আশুলিয়ায় তোফাজ্জল হোসেন সাজ্জাদ নামে আট বছরের এক শিশুকে হত্যা করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পাশের ফ্ল্যাটের প্রতিবেশী অভিযুক্ত রিপন মিয়াকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে বাইপাইল নতুন পাড়া এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির কম্বলে মোড়ানো মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃত রিপন মিয়া রংপুর সদর থানা এলাকার শাহ আলম হোসেনের ছেলে। বর্তমানে তিনি আশুলিয়ায় নিহত শিশু সাজ্জাদের পাশের ফ্ল্যাটে স্ত্রীসহ বসবাস করে আসছিলেন। পেশায় পোশাক কারখানার শ্রমিক হলেও করোনার কারণে চাকরি হারিয়ে বেকার ছিলেন রিপন।

নিহত শিশু সাজ্জাদ ভোলা জেলার সদর থানার চন্দ্রাবাদ গ্রামের ইউসুফ আলীর ছেলে। সে স্থানীয় আল আমিন মাদরাসায় পড়াশোনা করত বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা জানান, শিশু সাজ্জাদের মা খাদিজা বেগম পোশাক কারাখানায় কাজ করেন। কাজে যাওয়ার সময় তিনি সাজ্জাদকে বাসায় রেখে যান। বৃহস্পতিবার ছুটির পরে বাসায় ফিরে ছেলেকে দেখতে না পেয়ে অনেক খোঁজাখুঁজি করেন। পরে বাথরুমের ওপরে ফলস ছাদে কম্বলে মোড়ানো অবস্থায় শিশুটির মরদেহটি দেখতে পান। এ ছাড়াও ঘরের টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার চুরি হয়। 

নিহতের মা খাদিজা বেগম অভিযোগ করে বলেন, একদিন আগে রিপন তার কাছে ১ হাজার টাকা ধার চেয়েছিলেন।  না দেওয়ায় সে তার ছেলেকে খুন করেছেন এবং বাসা থেকে ১৪ আনা সোনা ও ৫ হাজার টাকা লুটে নিয়েছে। তিনি ছেলে হত্যার বিচার চান।

আশুলিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) আব্দুর রাশিদ জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাতেই ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মূলত টাকা ও মালামাল চুরির উদ্দেশ্যে রিপন মিয়া প্রতিবেশীর ঘরে ঢুকে। এ সময় কর্মজীবী বাবা-মা দুই জন বাইরে থাকলেও শিশু সাজ্জাত তখন ঘরেই ছিল। চুরির বিষয়টি ধরা পড়ার ভয়ে সে শিশুকে হত্যা করে লাশ কম্বল দিয়ে পেঁচিয়ে বাথরুমের ফলস ছাদে লুকিয়ে রাখে। এ ঘটনায় নিহত শিশুর পিতা ইউসুফ হোসেন বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন। ঐ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে শুক্রবার দুপুরে  রিপনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।