পাইকগাছা (খুলনা) সংবাদদাতা
পাইকগাছায় গো-খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বেশি দামে খড় ও বিছালি কিনে গো-খাদ্যের চাহিদা পূরণ করতে হচ্ছে। এতে করে এলাকার হাজার হাজার কৃষক ও গো-খামারি হিমশিম খাচ্ছেন। সরজমিনে বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এ অঞ্চলের মানুষের নিত্যসঙ্গী হলেও সব বিপর্যয় কাটিয়ে জীবন-জীবিকার তাগিদে গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া পালন করে আসছেন। আম্ফানে পাইকগাছায় বেড়িবাঁধ ভেঙে লবণপানি ঢোকা, বন্যা, জলাবদ্ধতা, মাছের ঘের ও তরমুজের আবাদ বেড়ে যাওয়ায় গরুর চারণভূমির সংকটের কারণে গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। পাইকগাছায় দেশি গরু প্রায় ৪৭ হাজার ২৭৫টি, শংকর জাত বা উন্নত জাতের ৩ হাজার ৪৫০টি, মহিষ ২০০, ছাগল প্রায় ৩৫ হাজার এবং ভেড়া ২১ হাজার রয়েছে বলে উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম জানান। উল্লেখিত তথ্য হিসেবে এদের জন্য যে পরিমাণ চারণভূমি বা আঁশ জাতীয় খাদ্য প্রয়োজন তার ১০% নেই বললেই চলে।
উপজেলার সরল গ্রামের সুবোল মণ্ডল, শিববাটীর দুলাল সানা, কিরণ মণ্ডলসহ অনেকে জানান, সারা বছর গরুর দুধ ও গোবর বিক্রি করে কোনোমতে সংসার চলে। এ বছর গো-খাদ্য সংকটে গরু ও ছাগল নিয়ে বিপাকে আছি। খড় আগে কিনতাম ৫০০ টাকায় সেই খড় এবার কিনতে হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার টাকায়। এতে করে গরু-ছাগল পালন কষ্টকর হয়ে পড়েছে। গোপালপুরের মোহাম্মাদ আলী জানান, আমার ৩২টি গরুর জন্য দিনে ১০ হাজার টাকা মতো খরচ পড়ে। দানাদার খাবারের মূল্য ঊর্ধ্বমুখী এবং দুধের বাজারমূল্য কম হওয়ায় খামার টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। ঠিকমতো খাবার দিতে না পারায় বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছি।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার বিষ্ণুপদ বিশ্বাস জানান, ব্যাপক লবণাক্ততা, মাছের ঘের ও তরমুজের আবাদ বেড়ে যাওয়ায় গরুর চারণভূমি কমে যাচ্ছে। দানাদার খাবারের মূল্য ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় গো-খাদ্যের সংকট মোকাবিলায় উন্নত জাতের ঘাস চাষে খামারিদের উদ্বুদ্ধ করছি। দানাদার খাদ্যের পাশাপাশি ঘাস চাষ করলে খামারিরা আর্থিকভাবে লাভবান হবে।