করোনাকালেও জাতীয় দুশ্চিন্তার কারণ জঙ্গিবাদের রাজনৈতিক অর্থনীতি

বৈশ্বিক মহামারি করোনায় বাংলাদেশে আজ শুধু জনস্বাস্থ্য নিয়েই কথা হচ্ছে না, এ সময়ে জাতীয় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ধর্মভিত্তিক মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদের রাজনৈতিক অর্থনীতি। বর্তমানে মূলধারার রাজনীতি ও শিক্ষাব্যবস্থায় মৌলবাদীদের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। গতকাল শনিবার ইস্কাটনে অর্থনীতি সমিতির কার্যালয় থেকে ‘ধর্মভিত্তিক মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদের রাজনৈতিক অর্থনীতি :শোভন সমাজের অশোভন প্রতিপক্ষ’ শিরোনামে আয়োজিত ওয়েব সেমিনারে বক্তারা এ কথা বলেন। এতে আলোচক হিসেবে অংশ নেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আল কাদেরী জয়। সভা সঞ্চালনা করেন অর্থনীতি সমিতির সহসম্পাদক শেখ আলী আহমেদ টুটুল।

অধ্যাপক আবুল বারকাতের সদ্য প্রকাশিত ‘বড় পর্দায় সমাজ-অর্থনীতি-রাষ্ট্র :ভাইরাসের মহাবিপর্যয় থেকে শোভন বাংলাদেশের সন্ধানে’ গবেষণা গ্রন্থটির বিষয়বস্তু ঘিরে ১৩ সিরিজের আলোচনাসভার এ সপ্তম পর্বটি অনুষ্ঠিত হয়। ওয়েবিনারে হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘অধ্যাপক বারকাত তার বইতে ঠিকই বলেছেন যে, ধর্মের ভুল ব্যাখ্যায় মানুষ ধর্মান্ধ হয়ে পড়ে। রাজনীতির মোক্ষম অস্ত্র হিসেবে মৌলবাদ ব্যবহূত হয়। বর্তমানে মূলধারার রাজনীতি ও শিক্ষা ব্যবস্থায় মৌলবাদীদের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। রাষ্ট্রক্ষমতা দখলে মৌলবাদীদের ঔদ্ধত্যে একটা হুমকির মুখে আমরা পড়ে গেছি। করোনা ভাইরাস মহামারিতে হতাশাকে কেন্দ্র করে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করতে পারে মৌলবাদীরা। সংবিধানের চার নীতি যারা মানে না তাদের রাজনীতি করার অধিকার নেই। ফুলের বাগানে শূকরকে ঢুকতে দিলে ফুলের বাগান তছনছ করে দেবে। তেমনই গণতন্ত্রে জঙ্গিবাদী মৌলবাদীদের আশ্রয় দিলে সব তছনচ হয়ে যাবে। এখানে মাঝামাঝি কোনো তত্ত্ব নেই, একাত্তরে যেমন পাকিস্তানিদের আমরা পরাজিত করেছি, তেমনি এখন জঙ্গি ও মৌলবাদীদের তাড়াতে হবে।’

আওয়ামী লীগের ভেতরে ধর্ম ব্যবসায়ী ও মৌলবাদীদের প্রবেশ ঘটেছে, এমন অভিযোগ করে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, পৃথিবীর কোথাও বড় কোনো বিপ্লবের পর প্রতিবিপ্লবীদের রক্ষা করা হয়নি, কারণ প্রতিবিপ্লবীরা সুযোগের অপেক্ষায় থাকেন। কিন্তু বাংলাদেশে সেটা হয়নি। মৌলবাদীদের উত্থানের বড় কারণ হলো আর্থিক সাহায্য। এটা শুরু করেছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, এখনো বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের আর্থিক সহায়তা আসে পাকিস্তান ও তার দোসরদের কাছ থেকে।

উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রাক্তন চেয়ারম্যান এবং জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ও প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আবুল বারকাতের ২০ বছরের গবেষণার ফসল ‘বড় পর্দায় সমাজ-অর্থনীতি-রাষ্ট্র :ভাইরাসের মহাবিপর্যয় থেকে শোভন বাংলাদেশের সন্ধানে’ বইটি যৌথভাবে প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি ও মুক্তবুদ্ধি প্রকাশনা।