রানা প্লাজা ধসের আট বছরে স্বজনদের দাবি
ইত্তেফাক রিপোর্ট
আট বছর আগে রানা প্লাজা ধসের বিচার এখনো শেষ হয়নি। এ ঘটনায় বিচার না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন শ্রমিক প্রতিনিধি ও নিহতদের স্বজনরা। রানা প্লাজার আট বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে গতকাল সাভারের রানা প্লাজার ধসের স্থল, জুরাইন কবরস্থান ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বক্তব্যে বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিরা শ্রমিকদের স্মরণ করেন। বিশ্বের শিল্প ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ এ ভবন ধসে ১ হাজার ১৩৮ জন শ্রমিক নিহত হন। আর আহত হন আরো প্রায় ২ হাজার। এ ঘটনার আট বছরেও বিচারকাজ শেষ না হওয়া এবং দায়ীদের শাস্তি না হওয়ায় তারা হতাশার কথা জানান। অবশ্য করোনা ভাইরাসের বিস্তার এবং সরকারঘোষিত চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে অতীতের বছরগুলোর মতো এবার অনেকটা সীমিত পরিসরে এসব কর্মসূচি পালন করা হয়।
রানা প্লাজা দুর্ঘটনার আট বছর স্মরণে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), সেইফটি অ্যান্ড রাইটস সোসাইটি (এসআরএস), বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস্) এবং শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরামের (এসএনএফ) যৌথ উদ্যোগে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। ‘দুর্যোগকালীন সময়ে শ্রমিকদের সুরক্ষা :শ্রম আইন ও অন্যান্য বিধি-বিধান’ সভায় বক্তারা দুর্যোগকালে শ্রমিকদের সুরক্ষা এবং শ্রম আইনের বিধি-বিধান সংশোধনের দাবি জানান। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে রানা প্লাজায় নিহত শ্রমিকদের সন্তানরা মোমবাতি প্রজ্বালন করেন। জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন এ কর্মসূচির আয়োজন করে। সংগঠনের সভাপতি আমিরুল হক আমিনের সভাপতিত্বে এ সময় সংগঠনের অন্য নেতারা বক্তব্য দেন। এ ছাড়া জুরাইন কবরস্থানেও বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে নিহত শ্রমিকদের স্মরণ করা হয়। এ সময় গার্মেন্টস শিল্পমালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসানের নেতৃত্বে সংগঠনের সদস্যরা শ্রমিকদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
জাতীয় প্রেস ক্লাবে মোমবাতি প্রজ্বালন অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, রানা প্লাজা ধসের আট বছর অতিবাহিত হলেও এখনো পর্যন্ত মালিকের শাস্তি নিশ্চিত হয়নি। রানা প্লাজা ধস নিছক দুর্ঘটনা নয়, এটি অবহেলাজনিত শ্রমিক হত্যার শামিল। বাংলাদেশে এ যাবত্ শতাধিক কারখানা অগ্নিকাণ্ডে ও ধসে পড়ে কয়েক হাজার গার্মেন্টস শ্রমিক নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরো অনেক বেশি। ভুক্তভোগী পরিবারকে কিছু ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলেও আইএলওর (আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা) নীতিমালা অনুযায়ী বেশিসংখ্যক শ্রমিক এখনো ক্ষতিপূরণ পাননি। শত শত শ্রমিক পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। কিন্তু এই শ্রমিক হত্যার দায়ে আজ পর্যন্ত মালিকের বিচার হয়নি। এ কারণে এ ধরনের অপরাধ ও দায়িত্বহীনতা দিনের পর দিন আরো বেড়ে চলছে। শ্রমিকরা আরো বেশি অবহেলিত ও বঞ্চিত হচ্ছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোতে যথাযথ ভূমিকা নেওয়ার দাবি জানান তারা।