ব ঙ্গ ব ন্ধু শে খ মু জি বু র র হ মা ন বি জ্ঞা ন ও প্র যু ক্তি বি শ্ব বি দ্যা ল য়

নবীন ব্যান্ড কূপজলের পথচলা

আধুনিকতা আর অপসংস্কৃতির মাঝে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া গানগুলো তরুণদের কাছে আবার জাগিয়ে তোলার চেষ্টায় কাজ করছে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন ব্যান্ড কূপজল। মনুষ্যত্ব, বাঙালিসুলভ ভাবধারার সৃষ্টি হয়, এমন সব গান কূপজল ছড়িয়ে দিচ্ছে ৫৫ একর ক্যাম্পাসের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে।

২০১৮ সালের পহেলা বৈশাখে বিশ্ববিদ্যালয়ের জয় বাংলা চত্বর থেকেই শুরু হয় কূপজলের পথচলা। ধীরে ধীরে সকলের মুখে ছড়িয়ে যেতে থাকে কূপজলের নাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও সংগঠনের নবীনবরণ বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তাদের ডাক পড়তে শুরু করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড়, দুই দিনব্যাপী গ্র্যাজুয়েশন সিরিমনি অনুষ্ঠানে মাতিয়ে রাখে পুরো ক্যাম্পাস ।

ব্যান্ড এর মূল কারিগর রাকিব বিবাগী। খুব ছোটবেলা থেকেই গান করেন। কোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও স্কুল, কলেজ ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নিয়মিত গান করতেন। ইচ্ছা ছিল ক্যাম্পাসের কোনো ব্যান্ডের সাথে যুক্ত হওয়া। তবে ক্যাম্পাসে প্রবেশের পর সবার থেকে আলাদা কিছু করার কথা মাথায় এলো। চিন্তা করলেন, বাংলাদেশের লোকসংগীত নিয়েই কাজ করবেন। যেই ভাবা, সেই কাজ। কিনে ফেললেন দোতারা। দোতারা শিখতে শিখতে এরই মাঝে হয়ে গেল অনেক বন্ধু। ক্লাস বা চায়ের আড্ডায় পেয়ে গেলেন তারই মতো আরো কিছু গানের মানুষ। যারা ভালো একটি প্ল্যাটফর্মের অভাবে শুরু করতে পারছিলেন না।

রিফাত, হূদয়, ধ্রুব, বৈশাখী, শুভম, রাকিব, বায়েজীদ, দীপু, শুভেন্দু, সৌরভ মূলত এই দশজনকে নিয়েই ‘কূপজল’। তারা অনুসরণ করে পবন দাশ বাউল, বাসুদেব বাউল, শাহ আবদুল করিমদের মতো গুণী শিল্পীদের। দেহতত্ত্ব, মরমি, সুফি, লালন, হাসন রাজা ইত্যাদি গানের মাধ্যমে তারা মানব জনম সম্পর্কে গভীরভাবে ভাবতে চেষ্টা করেন। তবে তারা বাংলাদেশের লোকসংগীতের পাশাপাশি ভারত, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা প্রভৃতি দেশের লোকসংগীত নিয়েও কাজ করেন। তাদের বাদ্যযন্ত্রগুলোর মাঝে আছে দোতারা, প্রেমজুড়ি, করতাল, খমক, হাত বায়া, কাহন, ইউকেলেলে, ম্যান্ডোলিন, বাঁশি এবং ব্যাঞ্জো। এ ছাড়াও, তার হাতে তৈরি কিছু বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করে থাকেন।

‘কূপজল’ নামের পেছনেও রয়েছে একটি অসাধারণ চিন্তাধারা। অতীতে গ্রাম বাংলায় কুয়া থেকে মানুষ পানি সংগ্রহ করতো। বর্তমানে সেই কুয়া আর নেই কিন্তু রয়ে গেছে তার তাত্পর্য। বাংলার লোকগীতিগুলোও ঠিক তেমনি আধুনিক গানের কারণে হারিয়ে যাচ্ছে। এ দলের সদস্যরা হলো কূপ আর গানগুলো হলো তার জল। যার মাধ্যমে মানুষ সংগীতের তৃষ্ণা মিটাবে। ‘কূপজল’ বিশ্ববিদ্যালয়-কেন্দ্রিক সংগঠন হলেও , তারা গ্রামবাংলার মাটি ও মানুষের গান গায়। মানুষের কাছ থেকে যে উত্সাহ ও ভালোবাসা পায় সেটাই তাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বলে মনে করেন তারা। লোকজ গানগুলো সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে এ বছর তারা আরও ভালোভাবে কাজ শুরু করেছেন।