রাজশাহীতে নকল ওষুধ তৈরি কারখানার সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা গত শুক্রবার রাতে নগরীর চন্দ্রিমা আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে নকল ওষুধ তৈরির কারখানার সন্ধান পায়। এ সময় কারখানা মালিক শফিকুল ইসলাম আনিছ ও তার সহযোগী রবিউল ইসলামকে আটক করে। কারখানা তল্লাশি করে প্রায় ৭১ লাখ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ নকল ওষুধ এবং নকল ওষুধ তৈরির মেশিন, কাঁচামাল ও যৌনবর্ধক ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। দীর্ঘ দুই বছর ধরে এ কারখানায় তৈরি হতো নকল অ্যান্টিবায়োটিক, গ্যাসের ক্যাপসুলসহ অন্যান্য ওষুধ।
গতকাল শনিবার ডিবি কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে আরএমপির কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক জানান, ‘এসব নকল ওষুধ বাজার থেকে উত্তোলনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এর সঙ্গে আরো কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এদিকে ঐ নকল ওষুধের কারখানা থেকে পুলিশ ও সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণির সুবিধাবাদী লোকজন নিয়মিত মাসোহারা আদায় করত বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে করে স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ বেশি শোনা যাচ্ছে। স্থানীয় ফাঁড়ির একজন কর্মকর্তা ম্যানেজ করে নকল ওষুধের কারখানাটি পরিচালিত হতো বলেও জানা গেছে। এ ব্যাপারে তাদের বিরুদ্ধে নগরীর চন্দ্রিমা থানায় মামলা হয়েছে। উদ্ধার নকল ওষুধের মধ্যে রয়েছে স্কয়ার কোম্পানির সেকলো ১ হাজার ৮৬৪ প্যাকেট, যার মূল্য সাড়ে ১৩ লাখ টাকা। এসবি-ল্যাবরেটরিজ কোম্পানির বিভিন্ন ধরনের নকল পাওয়ার ওষুধ ছাড়াও নাভানা কোম্পানির নকল পিজোফেনও রয়েছে।
১৩ জুয়াড়ি আটক : এদিকে গত শুক্রবার দিবাগত রাতে আরএমপির গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা চন্দ্রিমা থানার মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি স্টেডিয়াম মার্কেটের ২য় তলা থেকে জুয়া খেলা অবস্থায় ১৩ জনকে তাস ও নগদ টাকাসহ আটক করেছে। আটকরা হলেন—মো. তারেক, ইকবাল আহমেদ, মো. সেলিম উজ্জামান, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. সাইদ আলী, মো শামীম উদ্দিন, মো. জাকির হোসেন, মো. এনামুল হক মিন্টু, মো. সাব্বির, মো. মনিরুল ইসলাম, শ্রী বাপ্পি কুন্ডু, মো. জহুরুল ইসলাম উজ্জল, মো. হাবিবুর রহমান।