২০২১ সালের পুরস্কার মৌসুমের চূড়ান্ত পর্যায় ঘনিয়ে এসেছে। বাংলাদেশ সময় আগামীকাল ভোরে অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের ৯৩তম আসরে হবে সেই ফয়সালা। করোনা মহামারির কারণে নির্ধারিত সময়ের দুই মাস পর হচ্ছে অস্কার। এবারের মনোনয়ন তালিকায় থাকা চলচ্চিত্রগুলো ও তারকাদের নিয়ে রয়েছে ১৯টি মজার আর অদ্ভুত ব্যাপার। এগুলো বেশ আলোচিত হচ্ছে। ইত্তেফাক অনলাইনের পাঠকদের জন্য কয়েক কিস্তিতে থাকছে সেগুলো। আজ চতুর্থ ও শেষ কিস্তি।
২০ বছরের ঐতিহ্য টিকে থাকলো!
বুকার পুরস্কার জয়ী উপন্যাস ‘দ্য হোয়াইট টাইগার’ অবলম্বনে নির্মিত একই নামের ছবিটি কেবল একটি শাখায় (সেরা অ্যাডাপ্টেড চিত্রনাট্য) মনোনয়ন পেয়েছে। এর মাধ্যমে টিকে থাকলো অস্কারের অন্যরকম একটা ঐতিহ্য! অর্থাৎ শুধু এই শাখায় মনোনয়ন পাওয়া একটি ছবি আর কোনো মনোনয়ন পায়নি। গত ১৯ বছর প্রতি আসরে সেরা অ্যাডাপ্টেড চিত্রনাট্য শাখায় এই চিত্র দেখা গেছে। ‘দ্য হোয়াইট টাইগার’ প্রযোজনা করেছেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া।
সেরা মৌলিক গান শাখার অদ্ভুত ব্যাপার
হলিউডের বেশিরভাগ চলচ্চিত্রের এন্ড ক্রেডিটে গান রাখা হয় যেন সিনেমা হল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আগে দর্শকদের মন ছুঁয়ে যায়। কিন্তু হলিউড অভিনেতা উইল ফেরেলের ‘ইউরোভিশন সং কন্টেস্ট: দ্য স্টোরি অব ফায়ার সাগা’র ‘হুসাভিক’ সেরা মৌলিক গান শাখায় মনোনীত একমাত্র সংগীত যেটি ছবিটির এন্ড ক্রেডিটে ব্যবহার হয়নি। বরং এটি গল্পের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য।
এবারের আসরের সেরা মৌলিক গান শাখার আরেক অদ্ভুত ব্যাপারের সঙ্গে আছে আমেরিকান সংগীতশিল্পী ডায়ান ওয়ারেনের নাম। কিন্তু অন্য একটি কারণে। তিনি ছাড়া বাকি সবাই মৌলিক গান শাখায় প্রথমবার মনোনীত হয়েছেন। তার এটি দ্বাদশ মনোনয়ন। অথচ কখনো জেতেননি!
‘শব্দ’ এবার একটাই!
সাংবাদিকরা হাফ ছেড়ে বাঁচলেন যেন! অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসে সেরা শব্দমিশ্রণ ও সেরা শব্দ সম্পাদনাকে একীভূত করে রয়েছে সেরা শব্দ শাখা। পুরস্কার দুটি পৃথক দুই শাখায় দেওয়া হতো। কিন্তু এগুলোর একটির সঙ্গে অন্যটির পার্থক্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হিমশিম খেতেন সংবাদকর্মীরা। আসল ব্যাপার হলো, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সুবাদে শব্দ নিয়ে আলাদা দুটি শাখার প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে। অস্কার কর্তৃপক্ষ তাই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সবজান্তা স্টিভেন সোডারবার্গ!
“ওশান’স ইলেভেন”, “ওশান’স টুয়েলভ” এবং ‘এরিন ব্রকোভিচ’সহ অনেক বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন স্টিভেন সোডারবার্গ। ৯৩তম অস্কার অনুষ্ঠানের তিন প্রযোজকের একজন তিনি। ভিন্ন দুটি ভেন্যুতে আয়োজন, করোনা-সুরক্ষা প্রটোকল তত্ত্বাবধান এবং মনোনীতদের জুম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ অনেক ক্ষেত্রে তাদের কাছে কাজটা চ্যালেঞ্জিং।
তবে এই কঠিন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত কোনও লোক যদি থাকেন, তবে তার নাম স্টিভেন সোডারবার্গ! করোনা মহামারির প্রায় একদশক আগে ২০১১ সালে সামাজিক দূরত্বের বার্তা দিয়ে ‘কন্টাজিয়ন’ ছবিটি পরিচালনা করেন তিনি। মারণঘাতী এক ভাইরাস রেটিংয়ের আর-নম্বর ও ভ্যাকসিনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন সোডারবার্গ। অথচ তখন কেইবা তাকে গুরুত্ব দিয়েছিলো!
শেষ…
ইত্তেফাক/বিএএফ