চাকরির ইন্টারভিউ যখন টেলিফোনে

অনেক প্রতিষ্ঠান আজকাল টেলিফোনে চাকরিপ্রার্থীর ইন্টারভিউ বা সাক্ষাত্কার নিচ্ছে। এতে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ এবং চাকরিপ্রার্থী দুই পক্ষেরই সুবিধা হয়। অনলাইন বা ইমেইলে জীবনবৃত্তান্ত পাঠানোর পর চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান টেলিফোনে জানিয়ে দেয় ইন্টারভিউর জন্য নির্ধারিত সময়। চূড়ান্ত নিয়োগের আগে তো কর্মীকে অবশ্যই সরাসরি দেখা করে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে। কাজেই ইন্টারভিউর কাজটা টেলিফোনে সেরে নেওয়ার পদ্ধতিটা মন্দ নয়। তবে ইন্টারভিউ টেলিফোনে হলে তার গুরুত্ব মোটেও কম নয়। তাই অফিসে হাজির হতে হয় না বলেই ব্যাপারটাকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ একেবারেই নেই। সাফল্যের জন্য আপনাকে টেলিফোন ইন্টারভিউর জন্যও প্রস্তুতি নিতে হবে। আর সেটা করতে হবে মুখোমুখি ইন্টারভিউয়ের মতো করেই।

হয়তো ভাবছেন, টেলিফোনে ইন্টারভিউ দেওয়ার সবচেয়ে বড় সুবিধা-আপনাকে কেউ দেখবে না। বেতার ঘোষকের মতো আপনি কেবল কণ্ঠ দিয়েই মাত করে দেবেন। পরিপাটি হওয়া বা সাজগোজ করার ঝামেলা এড়ানো গেল। কিন্তু ব্যাপারটা এত সহজ নয়। প্রাথমিক পর্যায়ের টেলিফোন ইন্টারভিউতে কর্তৃপক্ষ কথার মধ্য দিয়েই আপনার আত্মবিশ্বাস যাচাই করতে চাইবে। নির্ধারিত কিছু প্রশ্ন করা হতে পারে। ব্যতিক্রমও দেখা যায়, টেলিফোনে কোনো কোনো ইন্টারভিউ এক-দেড় ঘণ্টা ধরেও চলে। আপনার আগের কর্মস্থল, কাজের ধরণ এবং বিভিন্ন অর্জন সম্পর্কে প্রশ্ন থাকতে পারে।

যখন ইন্টারভিউ নেওয়া হবে, সেই সময়টায় নির্জন কোনো জায়গা বেছে নিন। মুঠোফোনে পর্যাপ্ত চার্জ আছে কি না দেখে নিন। আর নির্দিষ্ট সময়টায় কেউ যেন বিরক্ত না করে, সেটাও আগে থেকে নিশ্চিত করুন।

নিজের জীবনবৃত্তান্তের (সিভি) একটা কপি সামনে রাখুন। টেলিফোনের ওপ্রান্ত থেকে আপনাকে যেন বিভ্রান্ত ও এলোমেলো না শোনায়। কারণ দ্বিতীয় সুযোগটা নাও পেতে পারেন। সাধারণ মৌখিক পরীক্ষার মতোই নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে তার পরই ইন্টারভিউ দিতে বসুন। হাতের কাছে কাগজ-কলম রাখতে হবে, যাতে আপনাকে জরুরি কিছু লিখে নেওয়ার জন্য দৌড়াদৌড়ি বা খোঁজাখুঁজি না করতে হয়। তাড়াহুড়া না করে ধীরে-সুস্থে ইন্টারভিউ দিন। স্নায়বিক চাপ (নার্ভাসনেস) যেন আপনাকে গ্রাস না করে।

টেলিফোনে ইন্টারভিউ দেওয়ার সময় আপনি প্রশ্নকর্তার মুখের ভঙ্গি বা প্রতিক্রিয়া দেখার সুযোগ পাবেন না। ওপ্রান্ত থেকে নির্ধারিত কিছু প্রশ্ন করা হবে, আপনি উত্তর দেবেন। তবু মনে হতে পারে, যোগাযোগটা যেন একতরফা হয়ে যাচ্ছে, দ্বিমুখী নয়। এ ক্ষেত্রে পরিস্থিতি বুঝে হয়তো আপনাকে প্রশ্ন করতে হতে পারে, ‘আমি কি আরও বিস্তারিত বলব?’ ভাবনা-চিন্তা করে উত্তর দিন। পাল্টা প্রশ্নও করুন। নিজেকে যতটা সম্ভব উদ্যমী দেখানোর চেষ্টা করলেও বাড়তি কৌতূহল প্রকাশ না করাই ভালো। মনোযোগ দিয়ে শুনুন। প্রশ্ন পুরোপুরি না বুঝলে প্রশ্ন করে নিশ্চিত হয়ে নিন। নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের ই-মেইল ঠিকানা ভালোভাবে জেনে নিন এবং টেলিফোন ইন্টারভিউ হয়ে যাওয়ার পর তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে ই-মেইল করুন।