নদী প্রধানত জমি তৈরি করে। যে নদী বহতা, সেটি আনে বালি ও পলি। বালি দিয়ে চলে রমরমা ব্যবসা ও টাকার ছড়াছড়ি। আর পলি দিয়ে আস্তে আস্তে হয় ভূমির পরিবর্তন। তারপর দেখা যায় নদীটি হয়তো মজে যাচ্ছে, সৃষ্টি হচ্ছে চর। তার দু কূলে লোক স্থাপন করে বসতি এবং শুরু হয় দখল। আর নদীর পাড়ে বসতি স্থাপন ও দখল করতে হলে বলবান হতে হয়। বলবান না হলে, রাজনীতি করতে হয়। রাজনীতি যেন সব অনিয়ম সুরক্ষার অষ্টধাতুর মাদুলি। খাল ,বিল, চরও এসব লোভী মানুষের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। নদী যেমন পলি দিয়ে উর্বর করে, তেমনি নদীর খাত মরে গেলে, সেই খাতে পানি জমে হয় বিল। আবার অনেক সময় পলি ভরাট হয়ে তৈরি হয় চর। সুতরাং নদীর কথা বললে খাল-বিল-চরের কথা আসবেই। অনেকে দখলকে স্থায়ীভাবে টিকিয়ে রাখার জন্য তাদের বসতিতে স্থাপন করছে মসজিদ, মাদরাসা, অনেকে আবার মন্দিরও। এ জায়গায় ধর্মকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। যার কারণে আমাদের দেশে আজ নদীর সংখ্যাও কমছে। স্বাধীনতার আগে দেশে নদীর সংখ্যা ছিল ৭০০-র বেশি। এখন ৪০৫টিতে নেমেছে। বেসরকারি হিসাবমতে নদীর সংখ্যা ২৩০। তাহলে আমরা বলতেই পারি, আমাদের বেশিরভাগ নদীই আজ মৃতপ্রায়। অতএব সরকারের উচিত দ্রুত আইন প্রয়োগ করে বসতি উচ্ছেদ করা। আমাদের দেশে এসব দখলকারীর বিরুদ্ধে আইন আছে, কিন্তু তার প্রয়োগ নেই বললেই চলে। যেভাবেই দলিল করা হোক না কেন, কর্তৃপক্ষ যথাযথ পদক্ষেপ নিলে নদী রক্ষা আইন অনুযায়ী তীরের দখলকৃত জায়গা যে কোনো সময় উদ্ধার করা সম্ভব। দেশের সমস্ত নদীর স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য ফিরিয়ে আনতে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।
শাহ বিলিয়া জুলফিকার
দুর্গাপুর, নেত্রকোণা