ভারসাম্য থাকুক অফিস আর ঘরের কাজে
জিলফুল মুরাদ
ওয়ার্ক ফ্রম হোম বা ঘরে বসে অফিস। শুরুতে শুনতে কিছুটা স্বস্তিকর মনে হলেও লম্বা সময় ওয়ার্ক ফ্রম হোম করার ফলে বাসা আর অফিসের কাজের ভারসাম্য রক্ষা করাটা রীতিমতো চ্যালেঞ্জিং মনে হচ্ছে। ঘরে বসে অফিস আর ঘরের কাজের ভারসাম্য রক্ষা করা কতটা চ্যালেঞ্জিং?
চার বছরের সন্তানকে নিয়ে সংসার সামলিয়ে হোম অফিস করেন মাহফুজা মৌ। তিনি একটি বেসরকারি জনসংযোগ এজেন্সিতে কাজ করেন। ওয়ার্ক ফ্রম হোম হওয়াতে বাচ্চাকে আরো বেশি সময় দিতে পারবেন এই প্রত্যাশায় শুরুতে কিছুটা স্বস্তি আসলেও এখন সেটিকে মাঝেমধ্যে বিড়ম্বনাই মনে হয়। তার মতে, এটি খুব একটা সহজ কাজ না। সব দিকে ম্যানেজ করতে হয়। দুইটাকেই গুরুত্ব দিতে হয়। অনেক সময় অনলাইনে অফিসের মিটিং থাকে। বাচ্চা এসে নানান আবদার করতে থাকে। তখন তাকে কিছু একটা দিয়ে বুঝিয়ে বলতে হয়। তবে, এটি নিশ্চিত করেই বলতে হয় যে, সন্তানকে এখন আগের চেয়ে বেশি সময় দেওয়া যায়।
তিনি বলেন, ঘরে বসে কাজের যেমন নতুনত্ব রয়েছে, তেমনি উদ্যোম হারালে সবই এলোমেলো হয়ে যেতে পারে। অফিসে বসে কাজ করা আর বাসায় বসে কাজ করার মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য নেই। তবে সময় নষ্ট করা শহুরে জ্যাম ঠেলে ভালো কাপড় পরে অফিসে যাওয়ার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি মিলেছে এ কথা সত্য। বাসায় নিজের চির পরিচিত ও আরামদায়ক পরিবেশে অফিসের কাজ করার অভিজ্ঞতা অনেকের জন্যই নতুন।
মনোবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘ঘরে বসে কাজ করা একটি অন্যতম দিক হলো ঘরের স্বাভাবিক পারিপার্শ্বিকতা থেকে নিজেকে কিছুটা হলেও আলাদা করে নেওয়া। পরিবারের সদস্যদের জানিয়ে দিতে হবে যেন জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ডাকাডাকি করা না হয়, শিশুদেরও সামলে রাখার ব্যবস্থা রাখতে হবে।’ ঘরে নিজের কাজের জায়গা আলাদা করতে পারলে এবং কাজে পুরোপুরি মনোযোগ দিতে পারলেই প্রকৃত অর্থে ঘরে বসে কাজ করার সুবিধাগুলো উপভোগ করতে পারবেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘরের অলস মনমানসিকতা নিয়ে কাজ করতে বসলে কাজের গতি কমবে—এটিই স্বাভাবিক। প্রতিদিনের কাজগুলোকে ভাগ করে নিলে কাজে মনোনিবেশ বাড়বে। সবসময় অফিসের যাওয়ার সময় যেভাবে দিন শুরু হয় সেভাবেই শুরু করলে অফিসের ভাবটা থাকবে। অর্থাত্ সঠিক সময়ে ঘুম থেকে উঠে নিয়মিত কাজগুলো সেরে ফেলা। স্বাস্থ্য ভালো রাখতে হালকা ব্যায়ামের অভ্যাস করা। সকালে খোলা আকাশে পায়চারী এবং রোদে কিছুক্ষণ থাকা। সকালের বাতাস শরীরে জন্য খুবই উপকারী। এরপর সকালে গোসল করে ঠিকঠাক মতো নাশতা সেরে, পোশাক পরে কাজ শুরু করে অফিসের কাজের মতোই ভাবতে হবে। এতে কাজ করার মানসিকতা তৈরি হবে। অফিসের উপস্থিতির সময়ে সহকর্মীদের সঙ্গে কুশলবিনিময় বা কথাবার্তায় ব্যয় করা।
সময়ের কাজ সময়ে শেষ করে বাসার ও অফিসের কাজে শৃঙ্খলা খুবই জরুরি। নিজে নিজেকে অনুপ্রাণিত করতে হবে। যেহেতু কোনো নির্ধারিত অফিস সময় নেই, এ কারণে বেশি কাজ করা এবং সব কিছু ভালোভাবে করা অনেক সহজ। যদি কাজটি সঠিক সময় আরম্ভ এবং সম্পূর্ণ করা হয় খুবই ভালো লাগবে। সন্ধ্যাটা থাকবে পরিবার, বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে (বাস্তবিক অথবা অনলাইন) অথবা নিজের কোনো শখের কাজ করে কাটানোর।
মডেল (মা-ছেলে): মায়িশা আনজুম অন্তরা,
আরহাম রহমান। ছবি: আব্দুল গণি