জোহরা শিউলী
‘একজন মানুষ যখন নিঃস্ব হয়, পারিবারিক ঝামেলার শিকার হয় তখন তার সমাধানের জন্য আমার কাছে আসে। আমি আমার সর্বোচ্চটুকু দিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াই। আমাকে ভরসার জায়গা মনে করেই বিপদগ্রস্ত মানুষগুলো আমার কাছে আসে।’ নিজের কথা বলতে গিয়ে কিছুটা আত্মতৃপ্তি ঝরে পরে তাসলিমা সুলতানা নিশাতের কণ্ঠে। তৃণমূল মানুষের জন্য কাজ করে, তাদের সংকটে পাশে দাঁড়িয়ে নিজ এলাকার মানুষের মনে ঠাঁই করে নিয়েছেন তিনি। তাসলিমা সুলতানা নিশাত নিজের মেধা, মননশীলতা, কর্মনিষ্ঠা এবং একাগ্র প্রচেষ্টার কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আলোকিত মুখ। একজন আইনজীবী, সমাজকর্মী হিসেবে তিনি তার বন্ধুর পথ প্রতিনিয়ত মসৃণ করে নিচ্ছেন। দাঁড়াচ্ছেন মানুষের পাশে। যখনি যার বিপদ আসছে দুর্নিবার ছুটে চলছেন। মানুষের সংকটে তার পাশে দাঁড়ানোই তার প্রধান ব্রত। নিশাত জানান—‘২০০০ সালে আমি দি হাঙ্গার প্রজেক্টের প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করি। এর ঠিক মাসখানেক পরে ট্রেনিংয়ের ফলোআপ হয়। সেই ট্রেনিংয়ের মধ্য দিয়ে আমি আসলে বুঝতে পারি মানুষের মানসিক শক্তি খুব মূল্যবান এক বিষয়। এই শক্তির মাধ্যমে সে বিশ্বজয় করতে পারে। সমাজের উন্নয়ন সাধন করতে পারে। এর সঙ্গে অনুধাবন করি মানুষকে সাহায্য করা মানে শুধু অর্থনৈতিক সহায়তাই নয়। মানুষকে তার মনের দিক দিয়ে শক্তিশালী করে দিলে তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয় না।’ নিশাত ১৯৭৫ সালের ২ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুনিয়া উট স্বনামধন্য খান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ছিলেন একজন ন্যায়পরায়ণ মানুষ। নিশাতরা ছয় বোন। কোনো ভাই ছিল না। বাবা-মায়ের অনেক আক্ষেপ ছিল একটি ছেলেসন্তানের জন্য। সেই সময় তিনি মনে মনে প্রতিজ্ঞা করতেন ছেলের জন্য বাবা-মা যে আক্ষেপ করেন তা এক দিন পূরণ করবেনই। কাজের মাধ্যমে তিনি বোঝাবেন ছেলেমেয়ে আলাদা কোনো বিষয় নয়।