স্পোর্টস রিপোর্টার
সবুজ ঘাসের উইকেট ভেলকি দেখিয়ে ম্যাচ জুড়ে বোলারদের প্রতিই বিমাতাসুলভ আচরণ করেছে। এপ্রিলের তপ্ত রোদে পাল্লেকেলে স্টেডিয়ামের ২২ গজে পাঁচ দিনই রাজ করেছেন ব্যাটসমানরা। দ্বিতীয় ও চতুর্থ দিনে চোখ রাঙিয়েছিল বৃষ্টিও। গতকাল রান উত্সবের শেষটা হয়েছে বৃষ্টির প্রশান্তিতে। ক্যান্ডিতে ড্র হয়েছে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা প্রথম টেস্ট। ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে দুই ম্যাচ হারের পর ড্রয়ের দেখা পেল বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের ৫৪১ রানের পর শক্ত জবাব দিয়েছে শ্রীলঙ্কা। গতকাল ম্যাচের পঞ্চম ও শেষ দিনের লাঞ্চ পর্যন্ত ব্যাট করেছে স্বাগতিকরা। ৮ উইকেটে ৬৪৮ রান তুলে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে শ্রীলঙ্কা। ১০৭ রানের লিড পায় তারা। দ্বিতীয় ইনিংসে ২ উইকেটে ১০০ রান তুলে চা বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। তখনো ৭ রানে পিছিয়ে ছিল মুমিনুল হকের দল। চা বিরতির পরপরই ক্যান্ডিতে নেমে আসে বৃষ্টি। পরে আর খেলাই হয়নি এবং ম্যাচ ড্র ঘোষণা করা হয়।
ডাবল সেঞ্চুরি করা লঙ্কান অধিনায়ক দিমুথ করুনারত্নে ম্যাচ সেরা হন। আগামী ২৯ এপ্রিল একই ভেন্যুতে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে।
গতকাল লাঞ্চের পর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ২৭ রানেই সাইফ (১), শান্তকে (০) হারিয়ে চাপে পড়েছিল বাংলাদেশ। অবশ্য সেই চাপকে ঘণীভূত হতে দেননি তামিম ইকবাল ও মুমিনুল হক। তৃতীয় উইকেটে তাদের ৭৩ রানের জুটিই নাটকীয় কিছু হতে দেয়নি। তামিম ৯৮ বলে অপরাজিত ৭৪ রান (১০ চার, ৩ ছয়) করেন। মুমিনুল ২৩ রানে অপরাজিত ছিলেন। লঙ্কানদের পক্ষে লাকমল ২টি উইকেট পান।
এর আগে গতকাল সকালে প্রথম সেশনে ১৩৬ রান যোগ করতে গিয়ে আরো ৫ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। দিনের পঞ্চম ওভারে বাংলাদেশকে পরম কাঙ্ক্ষিত ব্রেক থ্রু এনে দেন তাসকিন। ধনাঞ্জয়াকে বোল্ড করেন তিনি। ভেঙে যায় করুনারত্নে-ধনাঞ্জয়ার ৩৪৫ রানের বিশাল জুটি। যা বাংলাদেশের বিপক্ষে চতুর্থ উইকেটে সর্বোচ্চ ও যে কোনো উইকেটের বিচারে তৃতীয় সেরা জুটি। নিজের পরের ওভারে করুনারত্নেকেও ফেরান তাসকিন। পুল করতে গিয়ে শর্ট মিড উইকেটে ক্যাচ দেন ২৪৪ রান করা লঙ্কান অধিনায়ক। ধনাঞ্জয়া ১৬৬ রানের ইনিংস খেলেন। পাথুম নিশাঙ্কাকে (১২) ফেরান এবাদত হোসেন। ডিকওয়েলা রানআউট হন ৩১ রান করে। কিন্তু অষ্টম উইকেটে হাসারাঙ্গা-লাকমল ৬২ রান যোগ করে বাংলাদেশের ওপর চাপ বাড়ান। লাঞ্চের আগে হাসারাঙ্গাকে বোল্ড করেন তাইজুল। তিনি ৪৩ রান করেন। লাকমল অপরাজিত ছিলেন ২২ রানে। বাংলাদেশের তাসকিন ৩টি, তাইজুল ২টি, এবাদত-মিরাজ ১টি করে উইকেট পান।
বাংলাদেশের বিপক্ষে
সর্বোচ্চ রানের জুটি
ব্যাটসম্যান রান জুটি সাল
রুডলফ-ডিপেনার ৪২৯ ৩য় ২০০৩
ম্যাকেঞ্জি-স্মিথ ৪১৫ ১ম ২০০৮
করুনারত্নে-ধনাঞ্জয়া ৩৪৫ ৪র্থ ২০২১
বাংলাদেশের বিপক্ষে দলগত সর্বোচ্চ
দল রান ভেন্যু সাল
শ্রীলঙ্কা ৭৩০/৬ ডি. মিরপুর ২০১৪
নিউজিল্যান্ড ৭১৫/৬ ডি. হ্যামিল্টন ২০১৯
শ্রীলঙ্কা ৭১৩/৯ ডি. চট্টগ্রাম ২০১৮
ভারত ৬৮৭/৬ ডি. হায়দরাবাদ ২০১৭
শ্রীলঙ্কা ৬৪৮/৮ ডি. পাল্লেকেলে ২০২১
স্কোর কার্ড
টস: বাংলাদেশ
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : ৫৪১/৭ ডি. ও ১০০/২
(আগের দিন ৫১২/৩, ১৪৯ ওভার, করুনারত্নে ২৩৪*, ধনাঞ্জয়া ১৫৪*)
শ্রীলঙ্কা প্রথম ইনিংস রান বল চার ছয়
দিমুথ করুনারত্নে ক শান্ত ব তাসকিন ২৪৪ ৪৩৭ ২৬ ০
ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা বোল্ড ব তাসকিন ১৬৬ ২৯১ ২২ ০
পাথুম নিশাঙ্কা ক লিটন ব এবাদত ১২ ২৩ ১ ০
নিরোশান রান আউট (মিরাজ/লিটন) ৩১ ৩৩ ৩ ০
হাসারাঙ্গা ডি সিলভা বোল্ড ব তাইজুল ৪৩ ৫৫ ৩ ০
সুরাঙ্গা লাকমল অপরাজিত ২২ ৩১ ০ ১
বিশ্ব ফার্নান্দো অপরাজিত ০ ৭ ০ ০
অতিরিক্ত (বা ৪, লে বা ১০, নো বো ৩, ও ১০) ২৭
মোট (১৭৯ ওভার, ৮ উইকেট, ডি.) ৬৪৮
উইকেট পতন : ১/১১৪ (থিরিমান্নে), ২/১৫৭ (ফার্নান্দো), ৩/১৯০ (ম্যাথুস), ৪/৫৩৫ (ধনাঞ্জয়া), ৫/৫৪৪ (করুনারত্নে), ৬/৫৫৩ (নিশাঙ্কা), ৭/৫৮৫ (ডিকওয়েলা), ৮/৬৪৭ (হাসারাঙ্গা)।
বাংলাদেশ বোলিং :
আবু জায়েদ : ১৯-২-৭৬-০, তাসকিন আহমেদ : ৩০-৬-১১২-৩, এবাদত হোসেন : ২১-১-৯৯-১, মেহেদি হাসান মিরাজ : ৫৮-৬-১৬১-১, তাইজুল ইসলাম : ৪৫-৯-১৬৩-২, মুমিনুল হক : ৪-০-১৮-০, সাইফ হাসান : ২-০-৫-০।
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস রান বল চার ছয়
তামিম ইকবাল অপরাজিত ৭৪ ৯৮ ১০ ৩
সাইফ হাসান ক ডিকওয়েলা ব লাকমল ১ ৮ ০ ০
নাজমুল হোসেন শান্ত বোল্ড ব লাকমল ০ ৮ ০ ০
মুমিনুল হক অপরাজিত ২৩ ৮৬ ০ ০
অতিরিক্ত (নো বো ২) ২
মোট (৩৩ ওভার, ২ উইকেট) ১০০
উইকেট পতন : ১/২১ (সাইফ), ২/২৭ (শান্ত)।
শ্রীলঙ্কা বোলিং :
সুরাঙ্গা লাকমল : ৮-২-২১-২, বিশ্ব ফার্নান্দো : ৫-২-১৮-০, ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা : ১১-১-৪৬-০, হাসারাঙ্গা ডি সিলভা : ৯-০-১৫-০।
ফল : ড্র।
সিরিজ : দুই ম্যাচের সিরিজে ০-০ সমতা।
ম্যাচ সেরা : দিমুথ করুনারত্নে।