স্পোর্টস রিপোর্টার
বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনে গেলে এখনকার চেহারের সঙ্গে আগের চেহারার মিল খুঁজে পাওয়া যাবে না। অবকাঠামোগত দিক থেকে এখন অনেক উন্নয়ন চোখে পড়েব। খেলার উন্নয়নের জন্য অবকাঠামোগত উন্নয়নও দরকার। তবে খেলাটা যেন পিছিয়ে যায় সেদিকটা খেয়াল রাখছেন কমিটির বর্তমান কর্মকর্তারা। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক কাবাডি টুর্নামেন্ট আয়োজন করে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। একদিকে আয়োজন এবং অন্যদিকে ট্রফি রাখার একটা পরিকল্পনা, একসঙ্গে দুটো কাজে সফলতা পাওয়া কঠিন। আয়োজনে চাকচিক্য ছিল। আর কোটের লড়াইয়ে বাংলাদেশ অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব এনে দিল। এই পরিস্থিতিতে কাবাডির নতুন চেহারা এখন আরো বেশি চকচক করছে।
অনেক দিন ধরেই কাবাডিতে কথা উঠছিল করপোরেট কাবাডি আয়োজন করবে। কাবাডিকে বাঁচাতে হলে করপোরেট কাবাডির কোনো বিকল্প নেই। তাতে খেলোয়াড়দের চাকরি হবে। খেলার প্রসার আরো ঘটবে। আন্তর্জাতিক কাবাডি টুর্নামেন্টের পর প্রথমবারের মতো করপোরেট কাবাডির কথা ভাবছে ফেডারেশন।
সম্প্রতি কাবাডি ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক গাজী মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘বঙ্গবন্ধুর নামে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টটি সফল আয়োজনের পর আন্তর্জাতিক কাবাডি অঙ্গনে বাংলাদেশের ভবমূর্তি অনেক উন্নতি হয়েছে। আন্তর্জাতিক কাবাডির কর্মকর্তারা বাংলাদেশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছে। তারা দেখেছে আমাদের সাংগঠনিক দক্ষতা, একই সঙ্গে আমাদের দলের সামর্থ্য। সত্যি বললে, দেশে বিশ্বকাপ কাবাডি আয়োজনের জায়গায় পৌঁছে গেছি আমরা, এ নিয়ে কাজ চলছে।’
করোনার প্রকোপ কমলেই করপোরেট কাবাডি আয়োজনের কাজ দ্রুত শুরু হবে। একাধিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ফেডারেশনের আলোচনা হয়েছে। তাদের আগ্রহ আছে। পরিকল্পনা আছে প্রথম আসরে হতে পারে ছয় দল নিয়ে। ভারত যেভাবে প্রো-কাবাডির আয়োজন করে একই আদলে করতে গেলে প্রচুর অর্থ খরচা করতে হবে। এখনই সেটা করতে চায় না ফেডারেশন। একই সঙ্গে এই ভাবনাও আছে পেশাদারী প্রথায় না এগুলে খেলাটাও এগিয়ে যাবে না। ফেডারেশন বলছে খেলা দিয়েই খেলোয়াড়দের আয়ের পথ তৈরি করতে হবে। তা না হলে খেলোয়াড় পাওয়া যাবে না। করপোরেট লিগ হলে খেলোয়াড়দের আয়ের পথ বের হবে। যেখানে লাখ টাকাও আয় হতে পারে। কেমন হতে পারে ফরম্যাট। প্রত্যেক দলে চার জন করে ২৪ জন বিদেশি খেলোয়াড় থাকবে। সর্বোচ্চ ছয় জন থাকবে ভারতের, এছাড়া ইরান, কেনিয়া, শ্রীলঙ্কা, পোল্যান্ডসহ অন্যান্য দেশের থাকবে দুই জন করে।