সাটুরিয়ায় করোনায় কর্মহীন ১০ হাজার তাঁতশ্রমিক

এম নজরুল ইসলাম, সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা

করোনার প্রভাবে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার তাঁতশিল্প হুমকির মুখে পড়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে শত শত তাঁত-কারখানা। থমকে গেছে তাঁতপল্লির খটখট শব্দ। বেকার হয়ে পড়েছেন প্রায় ১০ হাজার তাঁতশ্রমিক। মানবেতর জীবনযাপন করছেন তাঁতশ্রমিকরা। অন্যদিকে ঈদকে সামনে রেখে ব্যবসায়ীরা যে মুনাফার আশা করেছিলেন, তাও মুখ থুবড়ে পড়েছে করোনায় লকডাউনের কারণে। আর লোকসানে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কারখানা মালিকরা।

কারখানা মালিকরা জানিয়েছেন, ঈদুল ফিতরকে ঘিরে তাদের সারা বছরের উত্পাদন। কিন্তু করোনার কারণে টাঙ্গাইলের করটিয়ার পাইকারি হাটে পাইকার না আসায় বেচাকেনা একদম বন্ধ। ফলে তারা বন্ধ করে দিয়েছেন বেশির ভাগ তাঁত-কারখানা। জানা যায়, উপজেলার সাভার, আগ সাভার, বরাইদ, হামজা, জালশুকা, চাচিতারা, নাশুরপুর ও নতুন ভোঁয়া গ্রামে ২ হাজার পাওয়ার লুম ও হ্যান্ডলুম রয়েছে। এসব কারখানায় প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। এখানকার উত্পাদিত তাঁতের শাড়ি, ওড়না ও থ্রি-পিস দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি হয়। সারা বছর কম উত্পাদন হলেও ঈদের প্রায় তিন-চার সপ্তাহ আগে বেশি কাপড় উত্পাদন করা হয়। কিন্তু লকডাউনে তা সম্ভব হচ্ছে না । সাভার গ্রামের তাঁতমালিক আজিজুর রহমান জানান, করোনায় কাজ বন্ধ, বাড়িতে আছি, কাজ বন্ধ করায় সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আরেক মালিক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘তাঁতের কাজ করেই সংসার ও ছেলে-মেয়েকে লেখাপড়া করাতাম। কিন্তু করোনা ও লকডাউনের কারণে তাঁত বন্ধ করে দিয়েছি। আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংসার ও ছেলে-মেয়ে নিয়ে এখন বিপদে আছি। আমাদের এ দুঃখ দেখার কি কেউ আছে?’