উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের একটি টিলায় শনিবার অগ্নিকাণ্ডে প্রায় দেড় একরেরও বেশি বন পুড়ে ভস্মীভূত হয়। অগ্নিকাণ্ডের পরপরই অন্যত্র পালাতে শুরু করে নানা ধরনের বন্যপ্রাণী। এ ঘটনায় বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পক্ষ থেকে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে দুই দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
রবিবার সরেজমিনে দেখা যায়, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘হীড বাংলাদেশ’-এর কার্যালয়ের পেছনের বনে দুটি টিলার বেশ কিছু অংশ আগুনে পুড়ে ছারখার হয়ে গেছে। এতে ছোট-বড় লতা-গুল্ম ও গাছ পুড়ে গেছে। বনবিভাগের পক্ষ থেকে ঐ এলাকায় বনায়নের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে উঠা গাছের ফাঁকে ফাঁকে বন্যপ্রাণীর খাবার তৈরি হয় এমন সব খাবার জাতীয় গাছ রোপণের জন্য শ্রমিকরা সেখানে কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনায় বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পক্ষ থেকে দুই সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছে। কমিটির সদস্য বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা মীর্জা মেহেদী সরওয়ার ও বন মামলা পরিচালক জুলহাস উদ্দিন। তাদের দুই দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
এদিকে লাউয়াছড়া বনের টিলায় আগুন লাগার বিষয়ে স্থানীয়ভাবে দুটি বিষয়কে দায়ী করা হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পাশেই টিলা দখলে নিয়ে এক প্রভাবশালী ব্যক্তি লেবুবাগান করেছেন। পাশের টিলাটিও দখলে নিতে পরিকল্পিতভাবে আগুন দিতে পারেন। অন্যদিকে লাউয়াছড়া বনবিট কর্মকর্তা মিজানুর রহমান কালাছড়া বিটের দায়িত্বে থাকাকালীন সেখানে কয়েক একর টিলা আগুনে পুড়িয়ে দেন। সে সময়ে ইত্তেফাকসহ বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, আগুন লাগার ঘটনায় প্রকৃতভাবে কারা দায়ী তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আসার পর জানা যাবে। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।