পিঠে সিলিন্ডার বেঁধে মাকে হাসপাতালে নেওয়া সেই ছেলে এখন করোনা পজিটিভ

নলছিটি থেকে ২০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে পিঠে অক্সিজেন সিলিন্ডার বেঁধে মোটরসাইকেলে মাকে বরিশাল হাসপাতালে নেওয়া সেই সন্তান জিয়াউল হাসান টুিট এবার নিজেই করোনা পজেটিভ। চিকিত্সকের পরামর্শে বাড়িতে চিকিত্সাধীন আছেন তিনি। জিয়াউল হাসান ঝালকাঠি কুমার পট্টি কৃষি ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার। শনিবার সকালে মাকে নিয়ে যান নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানে অ্যান্টিজেন টেস্ট করান জিয়াউল, তার মা রেহেনা পারভীন ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছোট ভাই রাকিব হাসান। মায়ের ও ছোট ভাইয়ের আসে ‘নেগেটিভ’। কিন্তু জিয়াউল করোনা ‘পজিটিভ’। শনিবার রিপোর্ট পাওয়ার পরই জিয়াউল বলেন, ‘ আমি পজিটিভ। দোয়া করবেন, কোনো সমস্যা নেই। সুস্থ আছি।

গত ১৭ থেকে ২২ এপ্রিল ছয় দিন ধরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিত্সাধীন মায়ের সার্বক্ষণিক সেবা যত্ন করেন জিয়াউল হাসান টিটু। মা স্কুল শিক্ষক রেহেনা পারভীন বলেন, ‘খুব ভালো আছি। কিন্তু আমার ছেলেটা যে করোনা পজিটিভ হলো, এ নিয়ে তো বেশ চিন্তা লাগছে। আমাকে কত যত্ন করেছে টিটুসহ ওরা তিন ভাই। জিয়াউল বলেন, ‘মায়ের অক্সিজেন স্যাচুরেশন এখন ৯৮-৯৯। সবার দোয়ায় আমিও সুস্থ হয়ে যাব।

নলছিটি পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সূর্যপাশা এলাকার রেহেনা পারভীন (৫০)। তিনি নলছিটি বন্দর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। ১০ এপ্রিল করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন। কিন্তু প্রতিবেদন পাননি। এর মধ্যেই ১৭ এপ্রিল দেখা দেয় শ্বাসকষ্ট। কষ্ট কমাতে একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার বাড়িতে আনেন ছেলে জিয়াউল হাসান। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শ্বাসকষ্টও বাড়তে থাকে রেহেনা পারভীনের। এরপর মাকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স এবং অন্য যানের খোঁজ না পেয়ে পিঠের সঙ্গে শক্ত করে বেঁধে নেন অক্সিজেন সিলিন্ডারটি। এরপর মায়ের মুখে অক্সিজেন মাস্ক পরিয়ে মোটরসাইকেলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বরিশাল হাসপাতালে চলে আসেন।