n ফয়জুল আল আমীন
করোনার এই সময়ে অনলাইন ব্যবসায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তেমনি একটি ফ্যাশন হাউস ‘বাটন’। ছেলেদের ডেমগ্রাফিক উদ্দেশ্য করে পাঞ্জাবি, কটি এবং স্যান্ডেল তৈরি করে আসছে। এই হাউজটির যাত্রা শুরু হয় ২০১৮ সালে। গত তিন বছর থেকে অনলাইন বেইসড এই ফ্যাশন হাউজটি পোশাক দিয়ে তরুণ-যুবকদের নজর কেড়েছে। এর মূল কারণ হলো—পণ্যের স্বকীয় বৈশিষ্ট্য এবং প্রতিটি কালেকশনে বিভিন্ন ধরনের ডিজাইনের বৈচিত্র্য। সর্বোপরি, ক্রেতার অভিরুচি অনুযায়ী বাটন নিজেদের পণ্য নিজেরাই তৈরি করে। এখানে বিভিন্ন রংবেরঙের পাঞ্জাবি তৈরি করার ফলে সকল বয়স ও শ্রেণির মানুষের রুচি অনুযায়ী বাঙালির এই ঐতিহ্যবাহী পোশাকের যোগান পাওয়া যায়। বিভিন্ন অনুষ্ঠান যেমন ঈদ, পুজা, বৈশাখ, বসন্তবরণ, বিজয় দিবস, বিয়ের মৌসুম সব আয়োজনে বাটন থেকে প্রস্তুত করা হয় বিভিন্ন থিমের পাঞ্জাবি। এখানে কাপড়ের মানেও আছে ভিন্নতা। সুতি, ভিসকস, লিলেন, সিল্ক ইত্যাদি কাপড় দিয়ে তৈরি হয় স্বতন্ত্র ডিজাইন ও মানের পাঞ্জাবি। সেইসঙ্গে আছে পাঞ্জাবি ও কটি। নিজের লুকে আভিজাত্য আনতে বা নতুনত্বের ধারা তৈরিতে কটি বিশেষ ভুমিকা পালন করে। বাটনে পাঞ্জাবির রঙের সঙ্গে মিল রেখে বা নান্দনিক লুক আনতে কালার কনট্রাস্ট করে কটি তৈরি করা হয়। পাঞ্জাবি ও কটি মিলিয়ে রয়েছে অনেক রঙের সমাহার— সাদা, লাল, সবুজ, নীল, গোলাপী, আকাশী ইত্যাদি। এতে করে সকল বয়স ও রুচিভেদে ক্রেতারা অবলীলায় এখান থেকে তাদের পছন্দের পণ্য ক্রয় করতে পারে। তবে দামের ক্ষেত্রে বিভিন্ন রেঞ্জ আছে। তার পুরোটাই নির্ভর করে কাপড় ও ডিজাইনের কস্টিংয়ের ওপর। তাদের অধিকাংশ কাপড় ভারত থেকে আমদানিকৃত, পাঞ্জাবি তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয় খুবই অভিজ্ঞ দর্জির কাছে। যাতে কাজে কোনো খুঁত না পাওয়া যায়। এতসব মেনেও বাটন সর্বনিম্ন মুনাফায় পণ্যসামগ্রী সকলের নিকট পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করে। বাটনের পাঞ্জাবির দাম ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। এখানে স্বল্পমূল্য থেকে শুরু করে বেশিমূল্যের পাঞ্জাবি পাওয়া যায়। এবং ভোক্তার পছন্দ অনুযায়ী কাস্টমাইজ করে পণ্য অর্ডার করার সুবিধা দেওয়া হয়। সেইসঙ্গে কোনো কারণে পণ্য অপছন্দ বা মাপে না হলে তা বদলিয়ে নেওয়ার সুযোগও আছে। অন্যান্য ব্যবসায়ের মতো এখানেও বিপণন, বিজ্ঞাপন, প্রচার-প্রসার ও পণ্য বিনিময় করা হয়; তবে পুরোটাই ভার্চুয়ালি সম্পাদিত। বাটনের ডিজাইনার শেখ ইরফান আহমেদ বলেন, ‘বাটন এখন একটি ১৯ হাজার সদস্যের পরিবার হিসেবে দাঁড় হয়েছে। যেখানে সৃজনশীলতা ও গুণগত মানসম্মত পণ্যের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। বাটনের ৩ বছরের ধারাবাহিক সাফল্যের গতি ধরে বলা যেতে পারে মানুষ এখন অনলাইনে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিস কেনাকাটা করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। এবং অনলাইন শপিংপ্রীতির বড় একটা জায়গা জুড়ে আছে এই প্রতিষ্ঠানের প্রতি বিশ্বস্ততা। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করি, সঠিক মানের পণ্য সঠিক সময়ে মানুষের নাগালে পৌঁছে দেওয়ার। আর সেই আস্থা থেকেই ক্রেতাদের সঙ্গে গড়ে উঠেছে এক সাবলীল বিশ্বাসের স্থান।’
পোশাক ও ছবি বাটন