অস্তিত্ব সংকটে আত্রাই নদী

আব্দুর রউফ রিপন, রাণীনগর (নওগাঁ) সংবাদদাতা

নওগাঁ জেলার মধ্যদিয়ে ছোট-বড় মোট সাতটি নদী বয়ে গেছে। এরমধ্যে এক সময়ের খরসে াতা নদী আত্রাই এখন প্রাণ হারিয়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। জানা গেছে, শুষ্ক মৌসুমে ভারতের অভ্যন্তরে বাঁধ দিয়ে পানি প্রত্যাহার করে নেওয়ায় নাব্য সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়া তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

ভারতের হিমালয়ের পাদদেশ থেকে উত্পত্তি আত্রাই নদীর। এরপর ভারতের পশ্চিম দিনাজপুর হয়ে নদীটি বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এই নদীটি জেলার ধামইরহাট, পত্নীতলা, মহাদেবপুর, মান্দা, আত্রাই ও রাণীনগর উপজেলা জুড়ে বিস্তৃত। প্রত্যেক খরা মৌসুমে ভারতের অভ্যন্তরে বাঁধ দিয়ে পানি প্রত্যাহার করে নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজন শেষে বাঁধ কেটে দিলে নদীর পানি প্রবাহ আবারও স্বাভাবিক হয়ে যায়। বারবার বাঁধ দেওয়া কারণেই ক্রমান্বয়ে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এ কারণে প্রতি বছর খরা মৌসুমে শুকিয়ে যাচ্ছে নদীটি।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. গোলাম সাব্বির সাত্তার বলেন, ‘ভূগর্ভস্থ পানির সঙ্গে নদীর স্তরের একটা সংযোগ রয়েছে। কোনো কোনো সময় ভূগর্ভস্থ পানি নদীতে আবার নদী থেকে পানি ভূগর্ভস্থ স্তরে রিচার্জ হয়ে থাকে। জলবায়ু পরিবর্তন ও অনাবৃষ্টির কারণে প্রকৃতির এসব স্বাভাবিক কাজে বিঘ্ন ঘটছে। এছাড়া নদীর উেসর অববাহিকায় বৃষ্টিপাত কম ও ভারতের অভ্যন্তরে সময়ে অসময়ে বাঁধ দিয়ে পানি প্রত্যাহার করে নেওয়ায় আজ আত্রাই নদীর এ অবস্থা। নদীটির অস্তিত্ব হারিয়ে গেলে জীবন-জীবিকার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে।’

নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী প্রবীর কুমার পাল বলেন, ‘জেলার প্রধান দুটি নদী আত্রাই ও ছোট যমুনা নদীতে পলি পড়ে নাব্য হ্রাস পেয়েছে। এই হাইড্রো-মরফোলজিক্যাল পরিবর্তনের কারণে নদীগুলো ক্রমাগত তার গতিপথ পরিবর্তন করছে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার জন্য নদী খনন করা জরুরি। এই নদী খননের ফলে নদীর পানি ধারণ ক্ষমতাও বাড়বে, কৃষকগণ নদীর পানি ব্যবহার করে সেচকার্য সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পারবেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ৬৪টি জেলার ছোট নদী, খাল ও জলাশয় পুনঃখনন প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশের সব নদীকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’