ইত্তেফাক রিপোর্ট
চলমান করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যাংকগুলোর করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) কার্যক্রমের আওতায় বিশেষ কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকগুলোকে ২০২০ সালের নিট মুনাফার ১ শতাংশের সমপরিমাণ অর্থ সিএসআর খাতে ব্যয় করতে হবে। আর অর্থের ৫০ শতাংশ সিটি করপোরেশন এবং বাকি ৫০ শতাংশ জেলা, উপজেলা বা ইউনিয়ন পর্যায়ে ব্যয় করতে হবে।
গতকাল সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে সব তপশিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠিয়েছে। এতে বলা হয়, সম্প্রতি বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও করোনা ভাইরাস সংক্রমণের হার পুনরায় বৃদ্ধি পেয়েছে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণজনিত কারণে দারিদ্র্যহার বৃদ্ধির ফলে বিপদগ্রস্ত, কর্মহীন দরিদ্র, ছিন্নমূল, দুস্থ, অসহায় জনগোষ্ঠীর নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী, স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রীসহ চিকিত্সাব্যয় নির্বাহ এবং কর্মহীন মানুষের জীবিকা নির্বাহে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে সামাজিক দায়বদ্ধতা পরিপালনের উদ্দেশ্যে তপশিলি ব্যাংকগুলোকে সিএসআর খাতে অতিরিক্ত বরাদ্দের মাধ্যমে বিশেষ সিএসআর কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
এ লক্ষ্যে ব্যাংকগুলো ২০২০ সালের নিরীক্ষিত (হিসাব বিবরণী চূড়ান্ত না হওয়ার ক্ষেত্রে অনিরীক্ষিত) হিসাব অনুযায়ী যে পরিমাণ নিট মুনাফা অর্জন করেছে, তার ১ শতাংশের সমপরিমাণ অর্থ সিএসআর খাতে বরাদ্দ করবে। এ অর্থ ২০২১ সালের সিএসআর খাতের বাজেটে ইতিমধ্যে বরাদ্দকৃত অর্থের অতিরিক্ত হিসেবে বরাদ্দ করতে হবে। প্রয়োজনে স্ব স্ব পরিচালনা পর্ষদ থেকে ঘটনোত্তর অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে। বরাদ্দকৃত অতিরিক্ত অর্থ চলতি বছরের জুনের মধ্যে সিএসআর খাতে ব্যয় করতে হবে। সামাজিক দায়বদ্ধতা খাতে বরাদ্দকৃত অতিরিক্ত অর্থ স্থানান্তর নিশ্চিত করে তা ১৫ মের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স বিভাগকে জানাতে হবে। অতিরিক্ত বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যাংকগুলো ২০২২ সাল হতে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তিন বছরে সিএসআর খাতে বরাদ্দ বা ব্যয়িত অর্থের সঙ্গে সমন্বয় করা যাবে। বিশেষ এই বাজেট থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী, স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রীসহ চিকিত্সা ব্যয় নির্বাহ এবং কর্মহীন মানুষের জীবিকা নির্বাহে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যয় করতে হবে।
এ অর্থ সিটি করপোরেশন এলাকার বস্তিবাসী, ছিন্নমূল এবং করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে সাময়িকভাবে বেকার হয়ে পড়া ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য; বিভিন্ন জেলার হতদরিদ্র, সাময়িক কর্মহীন ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যারা করোনা ভাইরাস বিস্তারের কারণে স্বাভাবিক জীবন-জীবিকা নির্বাহে অসমর্থ বা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এমন ক্ষেত্রে ব্যয় করতে হবে।
বিশেষ সিএসআর খাতে বরাদ্দের ৫০ শতাংশ অর্থ সিটি করপোরেশন এলাকায় এবং অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ জেলা, উপজেলা বা ইউনিয়ন পর্যায়ে ব্যয় করতে হবে। অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে যেন কোনো বিশেষ এলাকায় কেন্দ্রীভূত না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
ব্যাংকগুলো সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের সহায়তায় অথবা শীর্ষ পর্যায়ের এনজিও বা এমএফআইগুলোর মাধ্যমে অথবা উভয় প্রকারে প্রস্তাবিত বিশেষ সিএসআর কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। তবে এ বিষয়ে পৃথক হিসাব সংরক্ষণ করতে হবে।
এসংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে বাস্তবায়ন প্রতিবেদন আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বরাবর দাখিল করতে হবে। এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে বলে সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে।