স্পোর্টস রিপোর্টার
জন্মের তিন মাসের পর বাবাকে হারান, মা চলে গেছেন অন্যের সংসারে। বড় হয়েছেন নানীর কাছে। নানী বাসায় বাসায় রান্না করে সংসার চালান। শৈশব হতেই জীবনযুদ্ধ দেখে বড় হয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের মেয়ে কায়মা খাতুন। বক্সিং রিংয়ে প্রতিপক্ষের ওপর প্রতিটি পাঞ্চ যেন একেকটা দুঃখ-কষ্ট অতিক্রম করার লড়াই। এসেই সোনার পদক তুলে নিয়েছেন কায়মা খাতুন। চাপাইনবাবগঞ্জ হতে এসে বাংলাদেশ গেমসে স্বর্ণ জয় করে বার্তাই দিয়ে রাখলেন কায়মা খাতুন হারিয়ে যেতে নয় লড়াই করে টিকে থাকতে এসেছেন। তার বিশ্বাস লড়াই তাকে দারিদ্র্যতা থেকে মুক্তির পথ খুলে দেবে। স্বর্ণ জয়ে দারুণ খুশি কায়মা খাতুন বলেছিলেন, ‘ভালোই লাগছে। জেলা থেকে কেউ পারেনি। সেটা আমিই পেরেছি। সব থেকে বেশি আনন্দিত জেলার হয়ে সেনাবাহিনীকে হারিয়েছি।’
স্বল্প সময়ের প্রস্তুতিতে চমকই দিয়েছেন এই বক্সার। বলছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জে খুব বেশি অনুশীলন করতে পারেননি। বললেন, ‘ঢাকা এসে আনসারের ক্যাম্পে মাসুদ স্যারের অধীনে ১০ দিন অনুশীলন করায় উপকার হয়েছে। যার জন্য অনায়াসে সেনাবাহিনীর বক্সারকে হারাতে পেরেছি।’ নাকে মুখে আহত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি এমন খেলায় আগ্রহ কীভাবে? কায়মা তুলে আনলেন শৈশব স্মৃতি, বললেন, ‘স্কুলে খেলাধুলা করতাম কিন্তু বক্সিংয়ে আমার আগ্রহ ছিল না। একবার আমাদের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৫ দিনের বক্সিং ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। তো আমাদের স্কুলে চিঠি এসেছে দুই জন ভালো মানের খেলোয়াড় বাছাই করে দিতে। তারপর সেখানে অনুশীলনের জন্য আমি নির্বাচিত হই। সেখানে অনুশীলন করার পর বক্সিংয়ের প্রতি ভালোবাসার জন্ম। অনুশীলনে নিজের মধ্যে পরিবর্তন দেখি। তখন প্রতিজ্ঞা করলাম জীবনে উন্নতির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাতে হলে, বক্সিংয়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকতে হবে। একদিন না একদিন সাফল্য পাব। দারিদ্র্যের শিকল টপকাতে পারব এক দিন। কায়মা খাতুনের বেড়ে উঠা অনেক কষ্টের ‘আমার জন্মের তিন মাসেই বাবা মারা যান। মা থাকলেও আমি নানা-নানীর পরিবারে বড় হয়েছি। নানী মেসে রান্নাবান্না করেন। মামা রাজমিস্ত্রির কাজ করেন-বললেন স্বর্ণ পদক প্রাপ্ত বক্সার। প্রশ্ন ঃ আপনার পড়াশোনা কীভাবে চলে?
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শাহ নেয়ামতউল্লাহ কলেজে এইচএসসি মানবিক শাখায় প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী কায়মা খাতুন। নবম শ্রেণি পর্যন্ত নানী পড়ার খরচ দিয়েছেন। ২০১৪ সালে বক্সিংয়ের সঙ্গে জড়িত হলে ক্লাবের রাজু স্যার খরচ দিয়েছেন। বলছিলেন, ‘আমার স্কুলের বেতন, ফরম পূরণের টাকা সবই তিনি দিয়েছেন। তার কাছে কৃতজ্ঞ আমি।’