করোনা ভ্যাকসিন নিয়ে বিশ্বব্যাপী একধরনের নতুন রাজনীতি শুরু হয়েছে। সিরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া থেকে বাংলাদেশের পর্যায়ক্রমে ৩ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন পাওয়ার কথা। তার মধ্যে বাংলাদেশ বেক্সিমকো ফার্মার মাধ্যমে দেড় কোটি ডোজ ভ্যাকসিনের মূল্য অগ্রিম পরিশোধ করেছে। কিন্তু এ পর্যন্ত ভ্যাকসিন পেয়েছে মাত্র ৭০ লাখ ডোজ। আকস্মিকভাবে ভারত সরকার ভ্যাকসিন রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেওয়ায় বাংলাদেশের ভ্যাকসিন প্রাপ্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। অনেকেই মনে করছেন, ভারত অযৌক্তিকভাবে ভ্যাকসিন রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিষয়টি তা নয়। ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার যে ভ্যাকসিন তৈরি হতো তার কাঁচামালের একটা বড় অংশ আসত যুক্তরাষ্ট্র থেকে। কিন্তু সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের খারাপ করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে (ন্যাশনাল ক্রাইসিস) প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন করোনা ভ্যাকসিন তৈরির কাঁচামাল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ‘দ্য ডিফেন্স প্রটেকশন অ্যাক্ট, ১৯৫০’-এর ক্ষমতাবলে করোনা ভ্যাকসিনের কাঁচামাল রপ্তানি বন্ধ করেছেন। ফলে সিরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার ভ্যাকসিন উত্পাদন অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এ কারণেই ভারত সরকারও সিরাম ইনস্টিটিউটের ওপর ভ্যাকসিন রপ্তানি বন্ধের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এদিকে সিরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার সিইও আদর পুনওয়ালা করোনা ভ্যাকসিনের কাঁচামাল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। শুধু বাংলাদেশ নয়, ইউরোপের বহু দেশেও অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন বন্ধ রয়েছে। ফলে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ইতিমধ্যেই আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিবেচনা করছে অ্যাস্ট্রাজেনেকার বিরুদ্ধে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থারও সিরাম ইনস্টিটিউটের কাছ থেকে ২ বিলিয়ন ডোজ ভ্যাকসিন ক্রয় করে দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে দেওয়ার কথা। অথচ এ পর্যন্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পেয়েছে মাত্র ৩০ মিলিয়ন ডোজ। সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞগণ বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি কোভিড ভ্যাকসিনের কাঁচামাল রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা না তুলে নেয়, তাহলে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ বিরাট ঝুঁকির মুখে পড়বে।
n লেখক : চিকিত্সক