আঞ্চলিক সহযোগিতা সমৃদ্ধির কার্যকর বিকল্প :প্রধানমন্ত্রী

আঞ্চলিক সহযোগিতা সমৃদ্ধির সবচেয়ে কার্যকর বিকল্প হিসেবে বর্ণনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল সোমবার এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের (ইএসসিএপি/ ইস্যাপ) ৭৭তম অধিবেশনে ভার্চুয়াল বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, সার্ক, বিমসটেক, বিবিআইএন, বিসিআইএম-ইসি এবং ত্রিপক্ষীয় হাইওয়ে উদ্যোগগুলোতে যুক্ত রয়েছি আমরা। ‘সাউথ-সাউথ নেটওয়ার্ক ফর পাবলিক সার্ভিস ইনোভেশন’ অন্যান্য দেশের সঙ্গে অংশিদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশকে সহায়তা প্রদান করে। এর আগে উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন—জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতারেস, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী প্রায়উত চ্যান-উ-চা, জাতিসংঘের আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল ও ইএসসিএপির নির্বাহী সচিব আর্মিদা সালসিয়াহ আলিসজাহবানা, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৫তম অধিবেশনের সভাপতি ভলকান বোজকির, ইকোনোমিক অ্যান্ড সোশাল কাউন্সিলের সভাপতি মুনির আকরাম।  প্রধানন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ এশিয়ান হাইওয়ে এবং ট্রান্স এশিয়া রেলপথের বর্ধিত সংযোগ এবং ইস্যাপের উদ্যোগের প্রবল সমর্থক। বাংলাদেশ আন্তঃসীমান্ত কাগজবিহীন বাণিজ্য, এশিয়া-প্যাসিফিক বাণিজ্য চুক্তি, পিপিপি নেটওয়ার্কিং এবং ইউএন-ইস্যাপের অন্যান্য উদ্যোগে সক্রিয়ভাবে জড়িত রয়েছে।’

এ সময় উপস্থিত দেশগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ প্রদান করে জানান, কোভিড মহামারি থেকে দ্রুত উত্তরণে উন্নত বিশ্ব, উন্নয়ন অংশীদার এবং আইএফআইর এগিয়ে আসা উচিত। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে একটি শক্তিশালী ও সার্বজনীন জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য দক্ষ নীতি ও কৌশল গ্রহণ করা উচিত।

শেখ হাসিনা বলেন, মিয়ানমার থেকে জোর করে বাস্তুচ্যুত করা ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ। তাদের টেকসই প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে একটি কার্যকর সমাধানের জন্য আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই বিষয়ে দৃষ্টি নিবন্ধের আহ্বান জানাই

এসকাপ ইউনাইটেড নেশনস ইকোনোমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কাউন্সিলের এখতিয়ারভুক্ত পাঁচটি আঞ্চলিক কমিশনের অন্যতম। এই কমিশন ৫৩ সদস্য ও ৯ অ্যাসোসিয়েট সদস্য নিয়ে গঠিত। সদস্যদের অধিকাংশই এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের। এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলো ছাড়াও ফ্রান্স, নেদারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রও কমিশনের সদস্য রাষ্ট্র।

আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আশরাফ গনি, আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিইয়েভ, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো ইউদোদো, কিরিবাতির প্রেসিডেন্ট তানেতি মামুয়া, কির্গিজ রিপাবলিকের প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারোভ, মার্শাল আইল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ডেভিড কাবুয়া, তুভালুর প্রধানমন্ত্রী ও প্যাসিফিক আইল্যান্ড ফোরামের চেয়ার কাউসেয়া নাতানো, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ডা. লোটে শেরিং, কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী সামদেক আক্কা মহা সেনা পাদেই টেকো হুন সেন, ফিজির প্রধানমন্ত্রী জোসাইয়া ভোরেক বাইনিমারামারা, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান, শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মহিন্দ রাজাপক্ষে প্রমুখ অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রেখেছেন।