পশ্চিমবঙ্গে বিক্ষিপ্ত হিংসার মধ্যে সপ্তম দফার ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ভোটদান হয়েছে ৭৫ শতাংশ। কলকাতায় ভোটদানের হার ৬০ শতাংশ। এদিকে, ভারতে দ্বিতীয় দফার করোনা সংক্রমণের জন্য ভারতের নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করেছে মাদ্রাজ হাইকোর্ট। গতকাল শুক্রবার তারা বলেছে, ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে খুনের মামলা করা উচিত। পাশাপাশি নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, গণনার সময় কোভিড মোকাবিলায় কী ব্যবস্থা করা হচ্ছে তার নীল নকশা ৩০ এপ্রিলের মধ্যে জানাতে হবে মাদ্রাজ হাইকোর্টকে। না হলে গণনা বাতিল করা হতে পারে। মাদ্রাজ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সঞ্জিব বন্দ্যোপাধ্যায় ও সেন্থিকুমার রামমূর্তির বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, ভারতের সাম্প্রতিক করোনা পরিস্থিতির জন্য দায়ী নির্বাচন কমিশন। তাদের আচরণে দায়িত্ববোধে অভাব ছিল। কোভিড বিধি মেনে চলার নির্দেশ দিচ্ছে আদালত। অথচ রাজনৈতিক দলগুলো বিধিভঙ্গ করলেও কোনো ব্যবস্থা নেননি।
২৯ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় পশ্চিমবঙ্গে অষ্টম দফার ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে। ভারতের নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ঐ দিন সন্ধ্যা ৭টার পর এগজিট পোল দেখানো বা প্রকাশ করা যাবে।
শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের রানিনগরে দুই তৃণমূল কংগ্রেস নেতার বাড়িতে ভাঙচুর হয়। অভিযোগ কেন্দ্রীয় বাহিনীর দিকে। বিজেপি প্রার্থীর গাড়িতে হামলা হয় বলে অভিযোগ। মালদায় আক্রান্ত হন বিজেপি কর্মী। কলকাতার তারাতলায় তৃণমূল প্রার্থী এবং মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে ঘিরে জয় শ্রীরাম ধ্বনি দেন বিজেপি সমর্থকরা।
এদিন কলকাতার মিত্র ইনস্টিটিউশনে ভোট দেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। বের হয়ে এসে তিনি ভিক্ট্রি চিহ্ন দেখান। ভোট দিয়েছেন তার ভাতিজা এবং সংসদ সদস্য অভিষেক বন্ধ্যোপাধ্যায়ও। নিজের এলাকায় ভোট দিয়েছেন অভিনেতা এমপি দেব ও নুসরত জাহান। তবে অসুস্থতার কারণে ভোট দিতে পারেননি পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। এই প্রথম তিনি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিতে পারলেন না। বিজেপির তারকা প্রার্থী পার্নো মিত্র করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তিনিও ভোট দিতে পারেননি।
নির্বাচন নিয়ে মাদ্রাজ হাইকোর্টের রায় প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি কলকাতায় এক ভার্চুয়াল সভায় বলেছেন, ‘?মাদ্রাজ হাইকোর্টের রায়কে স্বাগত জানাচ্ছি। আদালত পরিষ্কার বলেছে, ইলেকশন কমিশন তার দায়িত্ব এড়াতে পারে না। আমরা বারবার বলেছিলাম, তামিলনাড়ু, কেরালায় ১ দফায় ভোট হয়েছে। ২ দফায় আসামে। পশ্চিমবঙ্গে ৮ দফা নির্বাচন করেছে মানুষকে মেরে ফেলার জন্য। কোভিড নিয়ে ভুল সিদ্ধান্তের জন্য এমন একটা অবস্থায় পৌঁছে গিয়েছে ভারত। সঠিক সময়ে সঠিক কাজ না করে দেওয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দিয়েছে। একটা অবিবেচক সরকার রয়েছে দিল্লিতে। ওদের ওয়ান পয়েন্ট প্রোগ্রাম, পশ্চিমবঙ্গ দখল করতে হবে। কীভাবে কোভিডকে রোখা যায়, ভ্যাকসিন দেওয়া যায়—এসব চিন্তা না করে আগে পশ্চিমবঙ্গকে শেষ কর। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের মেরুদণ্ড ভেঙে দাও! তারপর আমি কোভিড দেখে নেব। এটা ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে আশা করা যায় না। এই ইলেকশন কমিশন থাকলে ভারতে গণতন্ত্র বলে কিছু থাকবে না। ওয়ান পার্টি ওয়ান রুল থাকবে। ভোটের পর সাংবিধানিক বেঞ্চে যাব।’