করোনাকালে পথশিশুদের খাদ্য সংকটসহ অন্যান্য দুর্ভোগ বেড়েছে। সরকার তাদের জন্য নানা পদক্ষেপ নিলেও তা কার্যকর হচ্ছে না। তাই পথশিশুদের সুন্দর ভবিষ্যত্ নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিতে হবে। আগামী বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখতে হবে।
গতকাল সোমবার আন্তর্জাতিক পথশিশু দিবস উপলক্ষ্যে অনলাইনে আয়োজিত এক পরামর্শ সভায় সংসদীয় ককাসসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা এসব কথা বলেন। স্ট্রিট চিলড্রেন এক্টিভিস্টস নেটওয়ার্ক (স্ক্যান)-বাংলাদেশের সভাপতি জাহাঙ্গীর নাকির আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন শিশু অধিকার বিষয়ক সংসদীয় ককাস ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি শামসুল হক টুকু।
সাংবাদিক নিখিল ভদ্রের সঞ্চালনায় সভায় মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন স্ক্যান সম্পাদক মনিরুজ্জামান মুকুল। আলোচনায় অংশ নেন কেএনএইচ জার্মানির কান্ট্রি কোঅর্ডিনেটর মাটিলদা টিনা বৈদ্য, আপন ফাউন্ডেশন মো. আফতারুজ্জামান, ঢাকা আহ্সানিয়া মিশনের মাহাতাব হোসেন, গুড নেইবার্স বাংলাদেশের রিমো রনি হালদার, এক রঙ্গা এক ঘুড়ি’র নীল সাধু, এলমা-চট্টগ্রারের জেসমিন সুলতানা পারু, জেজেএস-খুলনা’র প্রতিনিধি আব্দুর রহমান, সিআরএসএস’র এডওয়ার্ড রবিন বল্লভ, এএসডির ফারহানা ইসলাম, লিডার্সের মোহন কুমার মণ্ডল, পার্লামেন্টনিউজের সাকিলা পারভীন, সচেতন সংস্থার অ্যাডভোকেট প্রশান্ত মণ্ডল ও এফপিএবি’র অরুন কুমার শীল প্রমুখ।
সভায় শিশুদের রাজনৈতিক ও ব্যক্তি স্বার্থে ব্যবহার বন্ধের আহ্বান জানিয়ে সাবেক প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু বলেন, সম্প্রতি শিশুদের ব্যবহার করে সারা দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে হেফাজতে ইসলাম। মাদক বহনসহ নানা অপকর্মে তাদের ব্যবহার করা হয়। তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিশুদের সুরক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তার ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিশুবান্ধব আইন-নীতিমালা সংশোধন ও পরিমার্জন করেছে। সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও পথশিশুদের সুরক্ষা উন্নয়নের জন্য সংসদীয় কমিটি ও ককাসের পাশাপাশি সরকার ও বেসরকারি সংস্থাগুলোকে যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
মূল প্রবন্ধে মনিরুজ্জামান মুকুল বলেন, টেকসই উন্নয়ন এসডিজি (লক্ষ্যমাত্রা) অর্জনে করোনা পরিস্থিতিসহ সামগ্রিক বিবেচনায় পথশিশুদের সুরক্ষায় স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি শিশুদের জন্য আলাদা অধিদপ্তরের কার্যক্রম দ্রুতই শুরু করার আহ্বান জানান তিনি।