মাধব রায়, সহকারী অধ্যাপক
ব্লু বার্ড হাইস্কুল এন্ড কলেজ, সিলেট
সোমবারের পর
হ্যাঁ, এখন যদি অন্য একটা বল নিই, যার ব্যাসার্ধ ২০ সেন্টিমিটার, তাহলে সূতা কমিয়ে ৮১ সেন্টিমিটার করতে হবে। তাহলে দুটো মিলে হবে ১০১ সেন্টিমিটার, আগেরটার সমান। তখন দোলনকাল সমান থাকবে। এই দৈর্ঘ্যকে বলা হয় কার্যকরী দৈর্ঘ্য। এখন তুমি কার্যকরী দৈর্ঘ্য সমান রেখে সূতার দৈর্ঘ্য বাড়াও গোলকের ব্যাসার্ধ কমাতে হবে। সূতার দৈর্ঘ্য কমাও, ব্যাসার্ধ বাড়াতে হবে। আর গোলকটা যে কোনও কিছু দিয়ে তৈরি হলেই হলো। মাটি, লোহা, কাগজ, পিতল বা তামা, এতে কিছু আসে যায় না। এই গোলকটাকে বলা হয় বব বা পিণ্ড।
আকাশ ভালো করেই বুঝেছে। বিন্দু, সীমা, কণিকা, অণু এরাও অনেকটা বুঝতে পেরেছে। রেখা বুঝতে পেরেছে কিনা তা আন্দাজ করা যাচ্ছে না। কারণ তার দোল খেতেই মনোযোগ।
আকাশ বলল-আচ্ছা মামা, যে গোলকটাকে ঝুলিয়ে দেয়া হলো, সেটি যদি ফাঁপা হয়, ফুটবলের মতো মাঝখানটা খালি থাকে?
বিন্দু বলল-ফুটবলের মাঝখানটা খালি নাকি, ওখানে তো বাতাস।
হ্যাঁ, যদি খালি অথবা বাতাস থাকে, তাহলে কি দোলনকাল একই থাকবে? বলল আকাশ।
হ্যাঁ, বললেন নীলকান্তবাবু? গোলক বা পিণ্ডটি খালি বা পূর্ণ যাই থাকুক, কার্যকরী দৈর্ঘ্য যদি সমান থাকে, তবে দোলন কালের কোনও পরিবর্তন হবে না।
সীমা বলল-এই দোলক দিয়ে আমরা কী কাজ করি?
অনেক কাজ। সরল দোলক যেটাকে বলি, এর বৈশিষ্ট্য হলো এটি কোনও দৃঢ় অবলম্বন থেকে ঝুলানো থাকবে এবং বিনা বাধায় দুলতে থাকবে। এটি দিয়ে আমরা অনেক কঠিন কাজ করে ফেলতে পারি।
বিন্দু বলল-নাম সরল দোলক, কাজ করবে কঠিন, বাহঃ।
কণিকা বলল-এর নাম সরল দোলক, তাহলে জটিল দোলকও আছে?
নীলকান্তবাবু বললেন-অনেক ধরনের দোলক আছে। ১৬১৬ খ্রিস্টাব্দে রবার্ট হুক কনিকেল দোলক তৈরি করেন। ১৮১৮ সালে হেনরি কেটার যে দোলক তৈরি করেন তার নাম কেটারের দোলক।
কিন্তু এটি দিয়ে আমরা কী কাজ করি তা তো বললে না, কণিকার অনুযোগ।
সরল দোলক এর তত্ত্ব ব্যবহার করে আমরা দেয়াল ঘড়ি বানিয়েছি। ১৬৫৬ খ্রিস্টাব্দে খ্রিস্টিয়ান হাইগ্যানস এই ঘড়ি তৈরি করেন।
শুধু ঘড়ি নির্মাণ? বলল সীমা।
না, না, নীলকান্তবাবু বললেন। সরল দোলকের সবচেয়ে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার হচ্ছে অভিকর্ষজ ত্বরণ g নির্ণয়ে। চারটি সূত্র ব্যবহার করে খুব সহজেই কোনও স্থানের অভিকর্ষজ ত্বরণের মান নির্ণয় করা যায়। তোমরা কি জানো, ভূপৃষ্ঠে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান কত?
হ্যাঁ, সবাই জানে, অণু বলল। 9.8 মিটার পার বর্গ সেকেন্ড।
থ্যাংক ইউ, বললেন নীলকান্তবাবু। অনেক গল্প হয়েছে। রেখার দোলাও হয়েছে অনেক। এবারে রেখা গান শোনা।
রেখা ইতোমধ্যেই দোলা থামিয়ে দিয়েছে। সে গান ধরল-
সেদিন দুজনে, দুলেছিনু বনে
ফুল ডোরে বাঁধা ঝুলনা।